‘স্বামী গরিব অথবা বেকার’ এই অজুহাত কি ভরণপোষণ এড়ানোর বৈধ কারণ হতে পারে?

যখনই তিনি বাচ্চার দুধের জন্য বা সংসারের খরচের জন্য টাকা চান, স্বামী চিৎকার করে বলেন, “দেখছ না আমি বেকার? টাকা কি আকাশ থেকে পড়বে? নিজের বাবার বাড়ি থেকে গিয়ে নিয়ে আসো।” তার কোলে তার আড়াই বছরের সন্তান। স্বামী একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান, কিন্তু গত প্রায় এক বছর ধরে তিনি কোনো কাজ করছেন না। তার জন্য কি বিধান আছে, গতকাল জানতে চেয়েছিলেন এক অসহায় মা।

আয় না থাকলে, সত্যিই কি স্বামীর কাছে ভরণপোষণ দাবি করা যায় না? আইন কি আসলেই তাই বলে? তার সহজ সরল প্রশ্ন ছিল আমার কাছে। আসুন জেনে নেয়া যাক, আইন কী বলছে-

আইন যা বলে: বাংলাদেশের পারিবারিক আইন এবং উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নজির অনুযায়ী, ভরণপোষণ দেওয়া স্বামীর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয় বরং এটি তার আইনগত ও বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।

বেকারত্ব কোনো বৈধ অজুহাত নয়: স্বামী যদি শারীরিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম হন, তবে তিনি “বেকার” এই অজুহাতে স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ রাখতে পারেন না। আইন মনে করে, সুস্থ সবল একজন মানুষকে তার পরিবারের নূন্যতম চাহিদা পূরণ করতে হবে।

আয় গোপন করার পরিণতি: অনেক স্বামী আদালতে এসে নিজেকে “নিঃস্ব” প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যাতে ভরণপোষণের পরিমাণ কম হয়। তবে আদালত কেবল স্বামীর মুখের কথায় বিশ্বাস করেন না। স্বামীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, জীবনযাত্রার মান এবং সম্ভাব্য আয়ের ক্ষমতা বিবেচনা করে আদালত ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করেন।

সামর্থ্য অনুযায়ী ভরণপোষণ: স্বামী যদি সত্যিই অসুস্থ বা অক্ষম হন, তবে আদালত হয়তো পরিমাণ কিছুটা শিথিল করতে পারেন, কিন্তু ভরণপোষণ থেকে একেবারে রেহাই দেওয়ার সুযোগ আইনে নেই বললেই চলে।

ভুক্তভোগীদের জন্য সমাধান: আপনার স্বামী যদি আয় থাকা সত্ত্বেও টাকা না দেন কিংবা শারীরিক সুস্থতা সত্ত্বেও অলসভাবে বসে থেকে ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করেন, তবে আপনি জেলা লিগ্যাল এইডে যোগাযোগ করুন। তারা সমস্যা শুনে উভয়ের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করবেন।

যদি সমাধান না হয়, তবে আপনি পারিবারিক আদালতে মামলা করে আপনার ও আপনার সন্তানের পাওনা বুঝে নিতে পারেন। আদালত স্বামীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বা অন্য কোনো আয়ের উৎস থেকে টাকা আদায়ের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

আপনার জন্য পরামর্শ: প্রতিটি মামলার প্রেক্ষাপট এবং বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আইনকানুনগুলো একই হলেও উপস্থাপনের ধরনে ফলের ভিন্নতা আসে। তাই যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন। উপরোক্ত আলোচনায় কেবল সাধারণ প্রতিকারগুলো সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top