আপনি কি জানেন, বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ে করার সাথে সাথেই প্রথম স্ত্রীর যাবতীয় বকেয়া দেনমোহর তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। যদিও আমাদের সমাজে একটি বড় ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, দেনমোহর কেবল ডিভোর্স বা স্বামী মারা গেলেই পরিশোধ করতে হয়।
অনেক পুরুষই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে বা না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন, কিন্তু ভাবেন দেনমোহরের টাকা তো পরেই দেওয়া যাবে। আসল জটিলতা শুরু হয় তখন, যখন প্রথম স্ত্রী আইনের আশ্রয় নেন। আইন না জানার কারণে অনেককেই হুট করে মোটা অঙ্কের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পড়তে হয়, এমনকি আদালতের বারান্দায় দৌড়াতে হয়।
আইনগত ব্যাখ্যা ও রেফারেন্স:
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের (Muslim Family Laws Ordinance, 1961) ৬ নম্বর ধারার ৫(এ) উপধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি সালিসি পরিষদের অনুমতি নিয়ে কিংবা অনুমতি ছাড়া (অবৈধভাবে) দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে:
তিনি দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন করার সাথে সাথেই প্রথম স্ত্রীর বকেয়া দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা (তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত উভয় অংশই) পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবেন।
প্রথম স্ত্রী যদি দেনমোহর দাবি নাও করেন, তবুও আইনত স্বামী নিজ দায়িত্বে তা পরিশোধ করতে বাধ্য।
টাকা পরিশোধ না করলে কী আইনি জটিলতা হতে পারে?
১. বকেয়া ল্যান্ড রেভিনিউ হিসেবে আদায়: প্রথম স্ত্রী যদি পারিবারিক আদালতে আবেদন করেন, তবে ওই দেনমোহরের টাকা “বকেয়া ভূমি রাজস্ব” (Land Revenue) হিসেবে আপনার জমি বা সম্পত্তি ক্রোক করে আদায় করা হতে পারে।
২. মামলা ও শাস্তি: দেনমোহর পরিশোধ না করলে এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে।
আইনজীবীর পরামর্শ: দেনমোহর কোনো কাগজের কথা বা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র নয়, এটি নারীর আইনগত অধিকার। দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার আর্থিক ও আইনি দায়বদ্ধতাগুলো পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া উচিত। যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।