আসিফ ও নীলার দশ বছরের সাজানো সংসার। সবাই ভাবত তারা আদর্শ দম্পতি। কিন্তু ব্যবসার কাজের অজুহাতে আসিফ প্রায়ই ঢাকার বাইরে থাকতে শুরু করে। নীলা প্রথমে সন্দেহ না করলেও একদিন আসিফের ফোনে আসা একটি মেসেজ সব ওলটপালট করে দেয়। তলে তলে আসিফ দীর্ঘদিনের এক পরকীয়া সম্পর্কের জেরে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেলেছে। নীলা যখন প্রমাণসহ আসিফকে চেপে ধরল, আসিফ দাবি করল সে পুরুষ মানুষ হিসেবে অধিকার রাখে। কিন্তু আইন ও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে এবং সালিশি পরিষদের তোয়াক্কা না করে দ্বিতীয় বিয়ে করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। নীলা যখন আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল, তখন আসিফ বুঝতে পারল তার এই লুকানো অধ্যায় কেবল একটি বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বরং তার সাজানো ক্যারিয়ার এবং সামাজিক সম্মানের জন্য এক বিরাট হুমকি।
গোপনে করা সেই বিয়ের কোনো আইনি ভিত্তি নীলার অমতে টেকানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াল। দিনশেষে পরকীয়া আর গোপনীয়তা আসিফকে কেবল একাকীত্ব আর আইনি জটিলতার মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। চলুন, এ সম্পর্কে আইন কী বলছে, বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। আইনগত ব্যাখ্যা: পরকীয়া, বহুবিবাহ ও স্ত্রীর প্রতিকার
স্বামী পরকীয়া করে দ্বিতীয় বিয়ে করলে স্ত্রী একসঙ্গে একাধিক আইনি প্রতিকার নিতে পারেন। প্রধানত মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, এখানে কার্যকর। কিন্তু পরকীয়ার প্রসঙ্গ এখানে আর কার্যকরি নয়, যেহেতু তারা বিবাহ করে ফেলেছেন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা এখানে বলে রাখি, পরকীয়া করে যে মেয়েটিকে বিবাহ করা হলো, তিনি যদি তার স্বামীকে যথাযথ উপায়ে তালাক প্রদান না করে, ইদ্দত পালন না করে, নতুন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, তবে সেই তৃতীয় মেয়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার উপায় আছে। বিয়ে বাতিলসহ তার (মেয়েটির) শাস্তি দশ বছর ও অর্থ দণ্ড হতে পারে! আগামীতে এ সম্পর্কে লেখা হবে।
তালাকের অধিকার এবং দেনমোহর: মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন অনুযায়ী, স্বামী যদি দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে স্ত্রী অবিলম্বে স্বামীকে তালাকের অধিকার দিতে পারেন বা আদালতের মাধ্যমে তালাকের ডিক্রি চাইতে পারেন।
দেনমোহর ও ভরণপোষণ: এই ক্ষেত্রে তালাক হলেও স্ত্রী তার সম্পূর্ণ দেনমোহর এবং ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ আইনত স্বামীর কাছ থেকে আদায় করতে পারবেন।
বহুবিবাহের বিরুদ্ধে মামলা: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, অনুযায়ী, সালিশি পরিষদের (Arbitration Council) লিখিত অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করা একটি ফৌজদারি অপরাধ।
শাস্তি: স্ত্রী সরাসরি স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্বামীর এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
ভরণপোষণ ও ক্ষতিপূরণ: প্রথম স্ত্রী তার ও সন্তানদের জন্য ভরণপোষণ মামলা করতে পারেন। এছাড়াও, স্বামী পরকীয়ার মাধ্যমে দাম্পত্য অধিকার লঙ্ঘন করায় স্ত্রী ক্ষতিপূরণের মামলাও করতে পারেন।
বিবাহ বাতিল হয় কি? স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েটি বেআইনি হলেও বাতিল হয় না। এ সম্পর্কেও পরবর্তীতে বিস্তারিত লেখা হবে। পেজে লক্ষ্য রাখুন।
লক্ষ্য করুন। উপরোক্ত প্রতিকারগুলো বাংলাদেশের আইন অনুসারে প্রাপ্ত প্রতিকার। যা একজন নারীকে প্রতিকার প্রদান করে সত্য, কিন্তু তার বিনিময়ে সেই নারীর ভবিষ্যতকে আরও কঠিন অন্ধকারে ঠেলে দেয়।
দিন শেষে এই প্রতিকার আসলে, তিরস্কারের নামান্তর হয়ে দাঁড়ায় একজন নারীর জন্য! আমাদের এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে। নতুন কিছু জানতে হবে। অপেক্ষা করুন। হয়তো আইন তৈরি করতে না পারলেও কিছু উপায় যদি বের করতে পারবো। যদি সত্যি সত্যি পারা যায়! আল্লাহ্ তায়ালা ভালো জানেন।
আপনার জন্য পরামর্শ:
আইনকানুনগুলো একই হলেও, স্বামীর বহুবিবাহের ক্ষেত্রে স্ত্রীর আইনি পদক্ষেপগুলো সুনির্দিষ্টভাবে গ্রহণ করা জরুরি। সঠিক ধারায় মামলা করতে এবং একাধিক প্রতিকার নিশ্চিত করতে অবশ্যই একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।