আপনার শখের নারীকে ইচ্ছে হলেই বিয়ে করে ঘরে তুলবেন; প্রকাশ্যে বা গোপনে? অথচ ঘরে গেছে স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা। আপনার জন্য চুড়ান্ত অস্ত্র, হ্যাঁ, ইসলাম তো একসাথে চার স্ত্রী সমর্থন করেই! তাই নির্দ্বিধায় ও নিঃসংকোচে অন্য এক নারীকে বিয়ে আপনি করতেই পারবেন!
একবারও জানতে চাইলেন না, ইসলাম কোন পরিস্থিতিতে একজন স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেয়? এর শর্তগুলোই বা কী? আর যে সকল প্রচারণা সমাজে প্রচলিত তা কি আদৌ সত্য? অন্যদিকে ধর্মীয় বিধান আর সামাজিক ধারণা, এর মধ্যেই বা কোনটা আসল কোনটা নকল? আর যে রাষ্ট্রে আপনি বসবাস করছেন, তার আইনকানুনগুলোও তো আপনাকে জানতে হবে। মানতে হবে!
আমাদের সমাজে দ্বিতীয় বিয়ে বা বহুবিবাহ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন, পুরুষ চাইলেই একাধিক বিয়ে করতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইসলাম ঘরে স্ত্রী রেখে ’শখের নারী’কে বিয়ের আয়োজন অথবা শুধু ‘ভালোবাসা’ বা ‘ইচ্ছা’র ভিত্তিতে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেয় না।
এই অনুমতি এসেছে বিশেষ সামাজিক ও মানবিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য এবং যার মূল শর্তই হলো ‘ন্যায়বিচার’। যখন স্বামী এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন কেবল সংসারে ভাঙন নয় বরং আইনি ও ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই সে নিজেকে অপরাধী করে তোলে। একজন অ্যাডভোকেট হিসেবে আমি দেখেছি, শর্ত পূরণ না করে করা অনেক দ্বিতীয় বিয়ে প্রথম স্ত্রীকে চরম মানসিক ও অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে; যার আড়ালে লঙ্ঘিত হয় ধর্মীয় বিধিবিধান।
ইসলাম কখন দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেয়?
ইসলাম বহুবিবাহের অনুমতি দিয়েছে, তবে এটি কোনো উৎসাহিত প্রথা নয়; বরং বিশেষ সামাজিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে কঠোর শর্তসাপেক্ষে একটি আইনি সুযোগ। মূল ভিত্তি হলো- ন্যায়বিচার ও সমতা।
১. ন্যায়বিচার ও সমতা: একাধিক বিয়ের প্রধান ও কঠিনতম শর্ত হলো, স্বামী তার সকল স্ত্রীর প্রতি পূর্ণ ন্যায়বিচার ও সমতা বজায় রাখতে সক্ষম হবেন। এই সমতা হতে হবে ভরণপোষণ, বাসস্থান এবং রাত্রি যাপন ও অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে।
পবিত্র কোরআনের নির্দেশ: আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আর যদি তোমরা ভয় কর যে, (একাধিক স্ত্রীর মধ্যে) সুবিচার করতে পারবে না, তবে মাত্র একটিকেই গ্রহণ কর। এতে পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।” (সূরা আন-নিসা, ৪:৩)
২. আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য: স্বামীর অবশ্যই একাধিক স্ত্রীর আর্থিক ও শারীরিক চাহিদা পূরণের সামর্থ্য থাকতে হবে। ভরণপোষণ দিতে না পারলে দ্বিতীয় বিয়ে করা জায়েজ নয়; ইত্যাদি।
দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির মানবিক প্রেক্ষাপট (যা শর্ত সাপেক্ষে প্রযোজ্য হতে পারে):
ক. প্রথম স্ত্রী যদি দীর্ঘকাল ধরে অসুস্থ বা সন্তানদানে অক্ষম হন।
খ. বিশেষ পরিস্থিতিতে সমাজে নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি হলে নারীর সামাজিক সুরক্ষার জন্য এবং অন্যান্য; ইত্যাদি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আইনগত দিক:
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, স্বামী প্রথম স্ত্রীর সম্মতি সাপেক্ষে এবং সালিসি পরিষদের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন না। অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে, এই ক্ষেত্রে দেশের আইন ভঙ্গ ও শাস্তির বিধান থাকলেও, যথাযত অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলে, তা বাতিল বা অবৈধ হবে না।
আপনার জন্য পরামর্শ: প্রতিটি মামলার প্রেক্ষাপট এবং বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আইনকানুনগুলো একই হলেও উপস্থাপনের ধরনে ফলের ভিন্নতা আসে। তাই যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।