“স্বামী ছেড়ে চলে গেলে কি স্ত্রীর শুধু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো আইনি প্রতিকার নেই? দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার কি শুধু পুরুষের একচেটিয়া?”
গতসপ্তাহে চেম্বারে আসা এক ভদ্রমহিলার গল্প বলি। বিয়ের মাত্র দুই বছর পর তার স্বামী তাকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ বা কারণ ছাড়াই পিত্রালয়ে রেখে নিখোঁজ হয়ে যান। লোকমুখে তিনি খবর পান স্বামী শহরে দিব্যি ভালো আছেন, কিন্তু স্ত্রীর সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ। স্ত্রী চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছেন না।
কিন্তু ভদ্রমহিলা বিচ্ছেদ চান না, তিনি চান তার সম্মানজনক বৈবাহিক জীবন ফিরে পেতে। তিনি অবাক হয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “স্যার, মামলা তো স্বামীরা করে স্ত্রীকে ফেরত নিতে, আমি কি মামলা করে স্বামীকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনতে পারবো?” তখনই মনে হলো, বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্পর্কে লেখা উচিত বিস্তারিত।
আমাদের সমাজে একটি বদ্ধমূল ধারণা হলো, ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার’ (Restitution of Conjugal Rights) মামলাটি শুধু স্বামীদের জন্য। এই ভুল ধারণার কারণে অনেক নারী স্বামীর অবহেলা বা বিনা কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার পরও কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পান না বা নেন না।
আইনগত ব্যাখ্যা ও প্রতিকার:
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী –
অধিকার সবার: এই আইনটি সম্পূর্ণভাবে জেন্ডার নিউট্রাল বা লিঙ্গ নিরপেক্ষ। অর্থাৎ, স্বামী যেমন তার স্ত্রীকে ফিরে পেতে মামলা করতে পারেন, ঠিক তেমনি একজন স্ত্রীও যদি তার স্বামী দ্বারা পরিত্যক্ত হন, তবে তিনি স্বামীকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
কেন এই মামলা করবেন? যদি স্বামী কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই স্ত্রীকে পরিত্যাগ করেন, ভরণপোষণ না দেন এবং স্বামী হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানান, তবে স্ত্রী এই প্রতিকার চাইতে পারেন।
আদালতের আদেশ: আদালত যদি দেখেন যে স্বামী বিনা কারণে স্ত্রীকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন, তবে আদালত স্বামীকে তার স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করার এবং দাম্পত্য দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিতে পারেন।
আইন কী বলে বনাম বাস্তবে কী হয়:
আইন কী বলে: আইন বলে, বিবাহিত জীবনে স্বামী বা স্ত্রী কেউ কাউকে কোনো সংগত কারণ ছাড়া ত্যাগ করতে পারবেন না। ত্যাগের শিকার হওয়া পক্ষ আদালতের মাধ্যমে ঘর করার অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি জানাতে পারেন।
বাস্তবে কী হয়: বাস্তবে অনেক সময় স্বামীরা মনে করেন স্ত্রীকে বাপের বাড়ি ফেলে রাখলেই ঝামেলা শেষ। কিন্তু স্ত্রী যখন এই মামলা করেন, তখন স্বামীর ওপর আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। এতে করে হয় স্বামী তাকে সসম্মানে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন, আর না হলে অন্তত স্ত্রীর ভরণপোষণ ও দেনমোহরের অধিকারগুলো আরও সুসংহত হয়।
আপনার জন্য পরামর্শ: ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার’ সংক্রান্ত কোন সমস্যা হলে, একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করবেন। কেননা, আইনকানুনগুলো একই হলেও প্রতিটি ঘটনা ও প্রেক্ষাপট সাধারণত ভিন্ন হয়, তাই এর উপস্থাপনও ভিন্ন হবে। উপরোক্ত আলোচনায় সাধারণভাবে প্রতিকারগুলো কী কী হতে পারে সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো।