তালাকনামা পাঠালেই কি স্বামীর সব দায়িত্ব শেষ? ইদ্দতকাল ও খোরপোষ নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে আপনিও পড়তে পারেন আইনি জটিলতায়। জানুন বিস্তারিত।
দিন কয়েক আগে কথা হচ্ছিল এক ভদ্রমহিলার সাথে। স্বামী তাকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন এক মাস আগে। তার প্রশ্ন ছিল, “স্যার, তালাক তো কার্যকর হতে ৩ মাস লাগবে, এই সময়টা আমি থাকবো কোথায়? আমার দৈনন্দিন খরচ কে দেবে? এর পরই বা আমি যাবো কোথায়?”
অন্যদিকে তার স্বামীর ধারণা যতদূর জানা গেছে, তিনি ভেবেছিলেন, বিচ্ছেদের কথা শুরু হয়েছে মানেই এখন থেকে আর কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই ‘ভ্রান্ত ধারণা’ থেকে অনেক সময় ফৌজদারি মামলা পর্যন্ত গড়ায়। চলুন জেনে নেই বিচ্ছেদকালীন ভরণপোষণ বা খোরপোষের প্রকৃত নিয়ম কী।
১. ইদ্দতকাল কী এবং কতদিন?
শরিয়াহ এবং বাংলাদেশের আইন (মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১) অনুযায়ী, বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার আগের সময়টাকে ইদ্দতকাল বলা হয়। সাধারণ ক্ষেত্রে এটি ৩টি ঋতুচক্র বা ৯০ দিন। তবে স্ত্রী যদি গর্ভবতী হন, তবে সন্তান ভূমিষ্ঠ না হওয়া পর্যন্ত এই সময়কাল দীর্ঘায়িত হয়।
২. ইদ্দতকালীন খোরপোষ: এটি কি ঐচ্ছিক?
মোটেও না। এটি একজন স্ত্রীর আইনি অধিকার এবং স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।
কতদিন: তালাকের নোটিশ প্রাপ্তির দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী ৯০ দিন বা বিচ্ছেদ চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়া পর্যন্ত স্বামী স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।
কীভাবে: স্ত্রীর খাবার, কাপড় এবং থাকার সুব্যবস্থা করতে হবে। স্ত্রী যদি তার বাবার বাড়িতেও থাকেন, তবুও স্বামী তার প্রয়োজনীয় খরচ দিতে বাধ্য।
৩. কত টাকা দিতে হবে?
আইনে নির্দিষ্ট কোনো অংক বলা নেই। এটি নির্ধারিত হয় স্বামীর সামাজিক মর্যাদা, আয় এবং স্ত্রীর জীবনযাত্রার প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে। তবে কোনো পক্ষ একমত হতে না পারলে আদালত এই টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করে দেন।
৪. দায় কোথায় শেষ হয়?
বিচ্ছেদ পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর অর্থাৎ ৯০ দিন পর সাধারণ ক্ষেত্রে স্বামীর ভরণপোষণের দায় শেষ হয়। এরপর স্বামীর আর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর প্রতি কোন দায়দায়িত্ব থাকে না। তবে স্ত্রীর যদি কোনো বকেয়া দেনমোহর থাকে, তবে তা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।
অন্যদিকে সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব কিন্তু বাবার ওপর সবসময়ই বহাল থাকবে আইন অনুযায়ী নির্ধানিত বয়স অবধি।
আইনগত সতর্কবার্তা: স্বামী যদি ইদ্দতকালীন খোরপোষ দিতে অস্বীকার করেন, তবে স্ত্রী পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে মামলা করে তা আদায় করতে পারেন। এমনকি ভরণপোষণ না দেওয়া বিচ্ছেদের একটি অন্যতম কারণ হিসেবেও আইনে স্বীকৃত।
আপনার জন্য পরামর্শ: আইনকানুন একই হলেও প্রতিটি ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ভিন্ন। খোরপোষের পরিমাণ এবং আদায়ের সঠিক পদ্ধতি জানতে, প্রয়োজনে একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন।