স্বামী তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছে। আপনি সেই নোটিশের কাগজে স্বাক্ষর করেন নাই অথবা চিঠিটা গ্রহণ করেন নাই। এখন কি আপনার তালাক কার্যকর হবে না?
অনেকে বলে থাকেন, তালাকের নোটিশে স্বাক্ষর না করলে তো তালাক কার্যকর হবার কথা না। কেননা অন্য পক্ষ তো জানলোই না যে তালাক দিয়েছে। তালাক নিয়ে এ রকম আরও কিছু কথাবার্তা আমাদের সমাজে চালু আছে। যার অনেকাংশে তালাকের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে শ্রেফ ভুল ধারণা।
এমনকি অনেকেই দাবি করে বসেন, তালাকের নোটিশে স্বাক্ষর না করলে বা চিঠি না নিয়েই বিচ্ছেদ ঠেকানো যায়। আসুন, এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাক।
বাস্তবতা হলো, তালাকের কাগজে স্বাক্ষর করা বা চিঠি গ্রহণ করা তালাক কার্যকর হবার জন্য বাধ্যতামূলক কোন শর্ত নয়। আপনি চিঠি গ্রহণ করুন বা না করুন, অথবা নোটিশে স্বাক্ষর না করলেও আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে। এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকার কারণে অনেক মানুষ ভুল করেন। বিশেষ করে নারীরা মনে করেন, স্বাক্ষর না করলে তারা হয়তো তাদের দাম্পত্য জীবন বাঁচাতে পারবেন। কিন্তু তালাক একটি আইনি প্রক্রিয়া, যা নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়।
তালাকের নোটিশ স্বাক্ষর না করলে কী হবে?
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী, তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য নোটিশে স্বাক্ষর করা বা চিঠি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়।
স্বাক্ষর না করার প্রভাব: তালাকের নোটিশে স্বামী বা স্ত্রী স্বাক্ষর না করলেও তালাক কার্যকর হতে কোনো বাধা নেই। নোটিশ দেওয়ার পর এর একটি কপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (বা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র) এবং অন্য কপি অপর পক্ষের কাছে রেজিস্টার্ড ডাকে পাঠাতে হয়।
তালাকের কার্যকারিতা: নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত একটি ইদ্দতকাল থাকে (স্ত্রী গর্ভধারণ করলে এই সময়কাল কিছুটা বাড়তে পারে)। এই সময়ের মধ্যে সালিশি পরিষদ কাজ করে। যদি ৯০ দিনের মধ্যে সমঝোতা না হয় এবং নোটিশটি আইনি প্রক্রিয়ায় ডাক বিভাগের রেজিস্টার্ড ডাকে যথাযথভাবে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে ৯০ দিন পার হওয়ার পর তালাক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যায়।
চিঠি গ্রহণ না করা: আপনি যদি তালাকের চিঠি বা নোটিশ গ্রহণ না করেন, তাহলেও আইনগতভাবে ধরে নেওয়া হয় যে আপনি নোটিশ পেয়েছেন, যদি তা সঠিক ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাকে পাঠানো হয়।
মনে রাখবেন, তালাক ঠেকানোর জন্য স্বাক্ষর না করা বা চিঠি এড়িয়ে যাওয়া কোনো সমাধান নয়। এর ফলস্বরূপ আপনি কেবল আপনার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগটাই হারাবেন। বরং আপনার উচিত হবে, চিঠি গ্রহণ করা এবং যদি আপনি সংসার করতে চান, তবে পরিবার এবং এলাকার মুরুব্বি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে সংসার রক্ষার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া।
আপনার করণীয়-
আইনি পরামর্শ: তালাকের নোটিশ পেলে বা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন সে আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিবে। নোটিশ হাতে পেলে আইনজীবীর পরামর্শে ৯০ দিনের মধ্যে সালিশি পরিষদে আপনার বক্তব্য পেশ করুন।