স্বামী গোপনে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন। স্ত্রী’র কাছে ধরা পড়লে, এই সম্পর্ককে কখনও স্রেফ ‘বন্ধুত্ব’ আবার কখনও ‘সাধারণ কথোপকথন’ বলে আখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ স্ত্রী খুব ভালো করেই বুঝতে পারছেন, কী চলছে তাদের মধ্যে। এমন প্রসঙ্গ এলে, আইনজীবী হিসেবে আমাকেও বিব্রত হতে হয়।
একটা সময় এই অতিরিক্ত অনুভূতিগুলো ফিকে হয়ে যায়। আর সেই ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে নিজ সংসারের যে কোনো সিদ্ধান্ত যুক্ত করতে পারে তীব্র অপরাধবোধ এবং কঠিন কোন পরিনতি। যদিও হয়তো আর ফিরে আসা যাওয়া না পূর্বের অবস্থানে। যে অতিরঞ্জিত অনুভূতির জন্য এই হাল হয়, সেটাও অল্প দিনেই ঝুরঝুরে হয়ে ওঠে। মাঝ থেকে আপনার শূণ্যতার দায়, আপনাকেই মৃত্যু অবধি বইতে হয়।
প্রশ্ন থেকে যায়, এটা কি শুধুই অনুভূতির নামে আত্মপ্রবঞ্চনা নয়? এই প্রশ্ন আমাকে মনে করিয়ে দেয়, আমাদের সমাজে পরকীয়ার নামের এই সম্পর্কটিকে অনেকেই কেবল অনুভূতির বিষয় বলে এড়িয়ে যেতে চান। অথচ যার আড়ালে চলে অনেকগুলো জীবন নিয়ে বিভৎস নির্মমতা!
শুধু একজন অ্যাডভোকেট হিসেবেই নয় বরং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেও দেখেছি, পরকীয়ার কারণে সৃষ্ট বিচ্ছেদের মামলাগুলোয় স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি, সন্তানরাও চরম ক্ষতির মুখে পড়ে। যে ক্ষতি কখনই পূরণ হবার নয়। এই ধরনের সম্পর্ক কখনোই আইন বা সমাজ সমর্থনও করে না।
পরকীয়া: আইনগত ও নৈতিক পরিণতি
যদিও বাংলাদেশে পরকীয়ার আইনি সংজ্ঞায়ন ও শাস্তি পূর্বে ভিন্ন ছিল, তবে এর প্রভাব পারিবারিক আইনে অত্যন্ত গুরুতর। আইনের নানান দূর্বলতায় পরকীয়ার শাস্তি বা তার বাস্তবায়ন খুব একটা চোখে পড়ে না। পরকীয়ার আইনগত সংজ্ঞাতেও রয়েছে মারাত্মক ফাঁকি! ফলে, পরকীয়ার ধর্মীয় ও নৈতিক দিনটাকেই আমাদের সামনে আনতে হয়।
বিবাহবিচ্ছেদের ভিত্তি: পরকীয়া সম্পর্ক বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদের একটি শক্তিশালী এবং বৈধ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত স্বামী বা স্ত্রী সহজেই এই অভিযোগে আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন।
সন্তানের হেফাজত: পরকীয়ার কারণে বিচ্ছেদ হলে, আদালতের কাছে সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত নির্ধারণের ক্ষেত্রে, যে পক্ষ পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল, তার নৈতিকতা এবং সন্তানের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করা হয়। পরকীয়ায় লিপ্ত পক্ষের অভিভাবকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
দেনমোহর ও ভরণপোষণ: পরকীয়ার কারণে স্বামী বা স্ত্রীর অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে, দেনমোহর এবং ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরকীয়ার বিষয়টি প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও তা আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভক করছে।
মনে রাখবেন, পরকীয়া মানুষের অতিরিক্ত আবেগে জীবনে করা এমনই এক প্রতারণা, শুধু দুটি পরিবারকেই ধ্বংস করে না, ধ্বংস করে পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে। যার ফল আপনাকে ভোগ করতেই হবে। আর আজীবন এই দাগ থেকে মুক্তি পাবেন না আপনিও আপনার রক্তে মাংসে গড়া সন্তানেরাও।
আইনি পরামর্শ: আপনি বা আপনার সঙ্গী যদি এই ধরনের কোনো সমস্যায় পড়েন, তবে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেটের সঙ্গে পরামর্শ করুন। এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।