দেনমোহরের একটা বড় অংশ স্বর্ণ দিয়ে ওসুল করেছে, তারপর সেই স্বর্ণ শাশুড়ি রেখে দিয়েছে আর ফেরত দেন নাই। এই অবস্থায় তালাক হলে কী করণিয়? একটা খুব প্রচলিত অভিযোগ এটি। প্রায়শই এমনটা দেখা যাচ্ছে। দেনমোহরের একটা বড় অংশ বা পুরো দেনমোহর সোনাদানা দিয়ে পরিশোধিত দেখিয়ে সেভাবে লিখাও হচ্ছে কাবিন নামায়; এবং এটা দেনমোহর পরিশোধের একটি যথার্থ উপায়ও বটে।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ক’দিনের মধ্যেই সেই সোনাদানা শশুড়বাড়ির মানুষজন নিরাপত্তাসহ আরও বিভিন্ন অজুহাতে নতুন বৌএর কাছ থেকে নিয়ে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিচ্ছেন। নতুন বৌ, এ বিষয়ে অন্যথা বলারও সুযোগ পাচ্ছে না। এভাবে একটা সময় সেই সোনাদানা আর ফেরত আসছে না তার কাছে।
ঠিক এই অবস্থায় যদি মেয়েটির তালাক হয়ে যায়! ঘটনাটা আরও করুণ হয়ে যায় যখন, মেয়েটির কাছে থাকা তার বাবার বাড়ি থেকে দেয়া স্বর্ণগুলোও হাতছাড়া হয়ে যায় ঠিক এভাবেই (সম্প্রতি সময়ের একটা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি)। তালাকের সময় এই সোনাদানা ফেরত না পেলে স্ত্রীর করণীয় কী? শ্বশুরবাড়ির দখলে থাকা দেনমোহরের গয়না কি স্ত্রী ফেরত পাওয়ার জন্য আইনত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন? চলুন, এই বিষয়ে আইন কী বলছে, তা স্পষ্ট করে জেনে নেওয়া যাক।
আইনগত ব্যাখ্যা: স্ত্রীধন কেড়ে নেওয়া ও প্রতিকার
দেনমোহর বা বিয়ের সময় পাওয়া যেকোনো ব্যক্তিগত গয়না স্ত্রীকে একবার হস্তান্তর করা হলে, তা স্ত্রীর স্ত্রীধন (স্ত্রীর বা নারীর নিজস্ব সম্পত্তি) হিসেবে গণ্য হয় এবং এর ওপর স্ত্রীর পূর্ণ অধিকার থাকে।
স্ত্রীধনের আইনি অধিকার: দেনমোহর পরিশোধের পর সেই স্বর্ণালংকার এবং বিয়েতে পাওয়া সোনাদানা উপহার সামগ্রী স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি। এই সম্পত্তি শ্বশুরবাড়ির কেউ বা স্বামী জোর করে কেড়ে নিলে তা আইনের চোখে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আইনি প্রতিকারের পথ ১: শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে স্ত্রীর দেনমোহরের গয়না বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি জোরপূর্বক আটকে রাখা বা কেড়ে নেওয়া হলে, স্ত্রী তাদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের জন্য ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারেন।
আইনি প্রতিকারের পথ ২: স্ত্রী পারিবারিক আদালতে দেনমোহর, খোরপোষ ও স্ত্রীধন আদায়ের জন্য মামলা করতে পারেন। আদালতে প্রমাণিত হলে, আদালত স্বামী এবং/অথবা শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
মূল বার্তা: দেনমোহর বা স্ত্রীধন এবং বিয়েতে পাওয়া সোনাদানা উপহার সামগ্রী স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি। শ্বশুরবাড়ির দখলে থাকা এই সম্পত্তি ফেরত না দিলে স্ত্রী অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন এবং আদালত স্ত্রীর অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।
আপনার জন্য পরামর্শ:
ব্যক্তিগত সোনাদানা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন (স্বামীর হেফাজতে থাকার পরও)। যদি শ্বশুরবাড়ির কেউ জোর করে গয়না রেখে দেন, তবে তার প্রমাণ সাক্ষ্য সংগ্রহ করুন। আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবশ্যই একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।