স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে, স্বামীর সংসারে থেকেই স্ত্রীর জন্য প্রতিকারের উপায়গুলো কী কী?

স্বামী, তা স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করেছে। স্বামীর সংসারে থেকেই প্রথম স্ত্রীর প্রতিকারের উপায়গুলো কী কী? এ সম্পর্কে অনেকেই জানতে চেয়েছেন গত কয়েকদিনে। কোন কোন অসহায় নারী তাদের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে সমাধান চেয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে পৃথক পৃথক সমাধান দেয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার। যা আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাই সবার জন্য এই লেখা।

এখনে সংক্ষেপে শুধু রাষ্ট্রিয় আইনই নয়, বরং মুসলিম ধর্মীয় আইন এবং অন্যান্য প্রেক্ষাপট আলোচনা করার চেষ্টাও করা হয়েছে। হঠাৎ করে একটা সংসার থেকে বেরিয়ে গেলে একজন নারী কত অসহায়ত্ব ও অনিরাপত্তার মধ্যে পরে, সেগুলোা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রশ্নটা খুব বাস্তব, সংসারে থেকেই একজন স্ত্রী কী কী আইনি ও ধর্মীয় প্রতিকার পেতে পারেন? সব সময় কি আলাদা হয়ে যেতেই হবে?

১. রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী প্রতিকার Muslim Family Laws Ordinance, 1961 আইন এর ধারা ৬ বাংলাদেশে একজন মুসলিম পুরুষ, সালিসি পরিষদের অনুমোদন ছাড়া ও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেন না। করলে সেটি আইনগত অপরাধ।

প্রথম স্ত্রী চাইলে, স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারেন। শাস্তি হতে পারে এক বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড ১০ হাজার টাকা অথবা উভয় দণ্ড। গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হলো এই মামলা স্বামীর সংসারে থেকেও করা যায় এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, আইন স্ত্রীকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করে না।

২. দেনমোহর ও ভরণপোষণ, অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে হলে, সম্পূর্ণ মোহর তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য এবং স্ত্রীর ভরণপোষণের দাবি আরও শক্ত হয়। স্ত্রী ও সন্তানের থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা, এসবের দায়িত্ব স্বামীর ওপর বর্তায়। এমন কি, স্ত্রী ও সন্তান পৃথক বসবাস করলেও স্বামীকে তাদের ভরণপোষণ দিয়ে যেতে হবে।

৩. মুসলিম ধর্মীয় আইনের দৃষ্টিভঙ্গি, ইসলামে বহুবিবাহ অনুমোদিত হলেও, শর্ত আছে। ‍উভয়ের প্রতি ন্যায়বিচার আবশ্যক এবং প্রথম স্ত্রীর অধিকার লঙ্ঘন হারাম হিসেবে চিহ্নত করা হয়েছে। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা, “তোমরা যদি ন্যায়বিচার করতে না পারো, তবে একজনই যথেষ্ট।”

অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে যদি, প্রথম স্ত্রীর অধিকার নষ্ট হয় এবং মানসিক কষ্ট ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় তবে তা ধর্মীয়ভাবে অন্যায় ও গুনাহ।

৪. সংসারে থেকেই আরও যে প্রতিকারগুলো সম্ভব-  

  • সালিসি পরিষদে আবেদন
  • সংসার রক্ষা বা শর্তসাপেক্ষ সমাধান
  • আলাদা থাকা ও খোরপোষ নির্ধারণ
  • মানসিক নির্যাতন প্রমাণ হলে আইনি পদক্ষেপ। এছাড়া স্ত্রী চাইলে, সংসার না ছেড়ে ধাপে ধাপে আইনি সুরক্ষা নিতে পারেন।

৫. হঠাৎ সংসার ছাড়লে একজন নারীর বাস্তব ঝুঁকি, আইন জানে, একজন নারী হঠাৎ সংসার ছাড়লে পড়েন

  • আর্থিক অনিশ্চয়তা
  • সামাজিক প্রশ্ন ও দোষারোপ
  • সন্তান থাকলে নিরাপত্তাহীনতা
  • আইনি লড়াই চালানোর সক্ষমতা হ্রাস, ইত্যাদি।

তাই আইন প্রথমে সুরক্ষা দেয়, তারপর সিদ্ধান্তের সুযোগ রাখে। ৬. তৃতীয় নারীর বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গ, দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় তৃতীয় নারীর বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না; এটি একটি আইনগত সীমাবদ্ধতা। তবে যদি সেই নারী নিজে বিবাহিত থাকা সত্ত্বেও আইনসম্মত তালাক ও ইদ্দত ছাড়াই বিয়ে করেন, তাহলে তার স্বামী দণ্ডবিধি ৪৯৪ ধারায় মামলা করতে পারেন। এই মামলা, কেবল প্রথম স্বামী করতে পারবেন, অন্য কেউ নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top