”যে ‘রশিদ’ আপনার বিবাহিত স্ত্রীর কাছ থেকে নিতে হবে” শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলাম কিছুদিন আগে। সেখানে অনেকেই প্রশ্ন করেছিলেন, কিভাবে রশিদ (দেনমোহর পরিশোধের) সংগ্রহ করবেন? বিবাহিত স্ত্রীর কাছ এ ধরণের পদক্ষেপ খুবই বিব্রতকর ও লজ্জার। মাঝে মধ্যে এমন উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি অস্বস্তিও তৈরি করতে পারে।
মনে রাখবেন, মুসলিম আইনে, বিবাহ একটি দেওয়ানি চুক্তি। তাই এর পদক্ষেপগুলো চুক্তি অনুরূপ হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
পদক্ষেপগুলো কী কী হতে পারে:
১. ব্যাংক ট্রান্সফার: সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার করলে ট্রান্সঅ্যাকশন রেফারেন্স থাকবে- সবচেয়ে পরিষ্কার প্রমাণ।
নোট: ট্রান্সফারে রেফারেন্সে লিখুন: “মোহর অথবা দেনমোহর – (বিবাহের তারিখ)” যাতে পরে তা সহজেই পড়ে বোঝা যায়। ট্রান্সফার স্লিপ ট্রান্সঅ্যাকশন কপি ও ছবি বা স্ক্রিনশট ইমেইলে বা গুগল ড্রাইভে নিরাপদে সংরক্ষণ করুন।
২. লিখিত রশিদ: সাবলীলভাবে একটি সংক্ষিপ্ত রসিদ (অ্যাকনলেজমেন্ট) লেটার লিখে দিতে বলুন এবং তারিখ ও স্বাক্ষর নিন। এতে উল্লেখ করুন পরিশোধকৃত পরিমাণ, পরিশোধের তারিখ, ও বিয়ের তারিখ, জায়গাসহ অন্যান্য বিবরণ। দুইপক্ষের দুইজন করে চারজন সাক্ষীর স্বাক্ষর যুক্ত করুন।
৩. ইমেইল, এসএমএস বা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ (লিখিত যোগাযোগ): সম্মানজনক ভঙ্গিতে আপনার পরিশোধের বিবরণ ইমেইল বা মেসেজ করে, তারিখসহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হয়। স্ক্রিনশট বা ছবি সংরক্ষণ করুন। প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ পাঠানোর জন্য আহ্বান করুন, সেগুলোও একইভাবে সংরক্ষণ করুন।
৪. নোটারি (কনফার্মেকশন) বা আইনজীবীর নোটিশ: যদি পারস্পরিক আস্থা কম থাকে, একজন আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত ঘোষণা বা নোটারাইজড রশিদ করানো যেতে পারে- আইনি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে। স্থানীয় নোটারি অথবা আইনজীবীর মাধ্যেমে কনফার্মেশন নিলে পরে আদালতে কাজে লাগার সম্ভাবনা বেশি।
৫. “মোহর অ্যাকাউন্ট” বা তৃতীয় পক্ষের ব্যাংক (এসক্রো) ডিপোজিট: বাংলাদেশে কিছু ব্যাংকে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে মোহর অ্যাকাউন্ট বা এসক্রো সেবা আছে- টাকা সেখানে রেখে প্রমাণ সুরক্ষিত করা যায়। মোহর একাউন্ট হতে পারে একটি উত্তম সমাধান।
৬. চেক, ড্রাফট অথবা ম্যানুয়াল পেমেন্ট কাগজপত্র: যদি নগদ না দিয়ে চেক, ড্রাফট বা পে-অর্ডার করা হয়, সেই কাগজ ও ব্যাংক স্টেটাস সংরক্ষণ করুন। এটাও হতে পারে বিকল্প গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভাউচার বা রিসিপ্টে বিস্তারিত বিবরণ রাখুন। রশিদে শুধু নাম ও টাকা নয়- তারিখ, পরিশোধিত অংশ (পূর্ণ বা আংশিক), উদ্দেশ্য (দেনমোহর) ইত্যাদি লিখুন- যাতে ভবিষ্যতে ব্যাখ্যা স্পষ্ট থাকে। যতটা সম্ভব।
৭. ছবি বা স্ক্যান ও ব্যাকআপ: সকল কাগজের উচ্চমানের স্ক্যান করে ছবি নিন। এক কপি আপনার ইমেইলে, আরেকটা গুগল ড্রাইভ বা মোবাইল ব্যাকআপ ও পরিবারের বিশ্বস্ত কারো কাছে রাখুন।
8. লিখিত রসিদ: যদি কিস্তিতে পরিশোধ করে থাকেন, তবে সেটাও একইভাবে সংরক্ষণ করুন। ব্যক্তিগত লজ্জা এড়াতে আগে কথা বলে বোঝান- “এটা আমাকে ও আপনাকে উভয়কে সুরক্ষা দেবে”, এমনভাবে ব্যাখ্যা দিন। চাইলে আজকের এই প্রতিবেদনটাও তার সাথে শেয়ার করতে পারেন।
মনে রাখবেন, এগুলো পদক্ষেপের ধারণা মাত্র। আরও হাজারটা বিকল্প পদক্ষেপ থাকতে পারে। সেগুলোও আপনি প্রয়োগ করতে পারেন।
শেষ কথা: বিবাহের দিন যদি সম্পূর্ণ দেনমোহর পরিশোধ করা হয়ে থাকে, তবে কাবিননামার ১৪ নং কলামে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে। সেটাই উত্তম।