ভদ্রলোক তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করতে এসেছেন। তার সাবেক স্ত্রী মারা গেছেন আরও কিছুদিন আগে। তিনি এখন দাবি করছেন, যেহেতু তিনি তার বিবাহিত স্ত্রী ছিলেন, অনেকদিন একসাথে সংসার করেছেন, তাই তিনি তার সাবেক স্ত্রীর সম্পত্তির একজন বৈধ ওয়ারিশ। কিছুদিন আগের একটা ঘটনার অবতারণা করছি আজ।
“তালাক হলেও তো আমাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্ক ছিল। আমি কি আমার সাবেক স্ত্রীর সম্পত্তির কোনো অংশ পাব না?” তার কণ্ঠে হতাশা আর এক ধরনের অধিকারবোধও ছিল। বিবাহবিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকার আইন নিয়ে আমাদের সমাজে যে ভুল ধারণাগুলো প্রচলিত; সেটা ছিল সেগুলোর মধ্যে অন্যতম একটা।
অনেকেই মনে করেন, তালাকের পরও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছু সম্পর্ক থেকে যায়, যার ফলে তারা একে অপরের সম্পত্তির ওয়ারিশ হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একবার তালাক কার্যকর হয়ে গেলে সাবেক স্বামী বা স্ত্রী একে অপরের সম্পত্তির ওয়ারিশ হওয়ার অধিকার হারান অর্থাৎ পূর্বের স্বামী বা পূর্বের স্ত্রীর কোনো সম্পত্তিতে আর কোনো অধিকার থাকে না।
এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকার কারণে অনেক মানুষ ভুল পদক্ষেপ নেন এবং অপ্রয়োজনীয় মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন। অন্যদিকে, বিবাহিত দিনগুলিতে কেহ কেই আকাশকুসুম কল্পনা করে স্বাভাবিক জীবনকে অতিষ্ট করে তোলেন, নিজের অজান্তে।
তালাকের পর উত্তরাধিকার: আইন কী বলে?
মুসলিম আইন অনুযায়ী, তালাক কার্যকর হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তরাধিকারের কোনো সম্পর্ক থাকে না। বাংলাদেশের পারিবারিক আইন যেহেতু মুসলিম আইন থেকে অনুসৃত, তাই রাষ্ট্রের আইনেও তালাক হবার পর স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কোন প্রকার অধিকার ও উত্তরাধিকার থাকে না।
ওয়ারিশ হওয়ার অধিকারের সমাপ্তি: তালাক কার্যকর হওয়ার পর সাবেক স্বামী বা সাবেক স্ত্রী একে অপরের সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে কোনো অংশ পাবেন না। তালাকের মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত সব আইনি সম্পর্ক (উত্তরাধিকার সম্পর্ক সহ) শেষ হয়ে যায়।
তালাক কার্যকর হওয়ার সময়: যদি তালাক কার্যকর হওয়ার আগেই (অর্থাৎ, তালাকের নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার আগে বা ইদ্দতকালীন সময়ে) কোনো একজনের মৃত্যু হয়, তবে জীবিত ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ওয়ারিশ হবেন।
অন্যান্য অধিকার: তালাকের পর সাবেক স্ত্রী তার বকেয়া বা সম্পূর্ণ দেনমোহর এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভরণপোষণ আদায় করতে পারেন। তবে, এই অধিকারগুলো উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির অধিকারের চেয়ে ভিন্ন। এছাড়া নাবালক সন্তান থাকলে, তার ভরন-পোষণও পাবার অধিকার থাকে স্ত্রী’র। সেগুলো ভিন্ন প্রসংগ।
মনে রাখবেন, বিবাহবিচ্ছেদ কেবল একটি সম্পর্ক শেষ করে না, এটি সব ধরনের আইনি বন্ধনও ছিন্ন করে দেয়।
আপনার করণীয়
১. আইনি পরামর্শ: বিবাহবিচ্ছেদ এবং এর আইনগত পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন।
২. সঠিক পদক্ষেপ: তালাকের পর আপনার যদি কোনো আইনগত অধিকার (যেমন দেনমোহর, খোরপোশ, ভরণপোষণ) থেকে থাকে, তবে তা আদায়ের জন্য সঠিক আইনি পদক্ষেপ নিন।