স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। স্ত্রী কি সেই তালাক দেয়ার কারণে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন? অনেকের মনেই জিজ্ঞাসাটা রয়ে গেছে। কেউ কেউ কিছু ভুল ধারণা মনের মধ্যে পুষেও রেখেছেন। যেমন, তারা ভাবেন, হ্যাঁ, তালাক দিলে, তার বিরুদ্ধে মামলা করে দেয় যায়। কিন্তু আইন কী বলছে? পড়ুন বিস্তারিত-
বাস্তবতা হলো, তালাক বৈধ। বিবাহের মতো তালাকও একটি বৈধ আইন। যদিও, তালাক প্রদান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে সবথেকে অপছন্দনীয় কাজ কিন্তু এটি বৈধ কাজ, যা অত্যন্ত নিরুপায় অবস্থায় কেবল একটি শেষ অবলম্বন হিসেবে রাখা হয়েছে। ইসলামে বিয়ে একটি পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন। এই বন্ধন ছিন্ন করাকে আল্লাহ অপছন্দ করেন। অন্যভাবে বলা যায়, তালাক যদিও ইসলামে বৈধ, তবে এটি অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। এককথায়, ইসলাম ধর্মে ‘তালাক’ হলো নিকৃষ্টতম বৈধ!
তাই সোজা কথায়, তালাক দিয়েছে বলে মামলা করা যায় না। কিন্তু এর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আইনি অধিকার থাকে। যেমন, দেনমোহর, খোরপোশ ও সন্তানের ভরণপোষণ। এই অধিকারগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকার কারণে অনেক নারী তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। অজ্ঞতার কারণে অনেক নিরীহ মানুষ তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন এবং তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এ ছাড়াও আরও কিছু মামলারও উদ্ভব করে থাকেন স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন। সেটাও উল্লেখ করা দরকার। যার সাথে যদিও তালাকের কোন সম্পর্ক নেই।
তালাক ও তার পরবর্তী অধিকার: আইন কী বলে?
তালাকের পর সাধারণত যে মামলাগুলো হয়ে থাকে, বিশেষ করে স্ত্রীদের পক্ষ থেকে, সেগুলো হলো:
যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা: যদি বিয়ের সময় যৌতুক নেওয়া হয় বা স্ত্রী কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হন, তবে তালাকের পর বা পূর্বে যে কোন সময় যৌতুক ও নির্যাতনের জন্য মামলা করতে পারেন। কিন্তু যদি, তেমন কিছু না ঘটে, তবে শুধু শুধু নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না। যৌতুকের মিথ্যে মামলার জন্য উল্টো স্ত্রীর কারাদণ্ড হতে পারে! এ প্রসঙ্গে অন্য কোনদিন বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
দেনমোহর ও খোরপোসের মামলা: তালাক কার্যকর হওয়ার পর স্ত্রী তার বকেয়া বা সম্পূর্ণ দেনমোহর আদায় করতে পারেন। এছাড়াও, তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী। সাধারণত তিন মাস। এই দেনমোহর এবং ভরণপোষণ পরিশোধ করা স্বামীর আইনি দায়িত্ব।
সন্তানের হেফাজত: তালাকের পর সন্তানের হেফাজত বা কাস্টডি নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত সন্তানের হেফাজত মায়ের কাছে থাকে, তবে সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব বাবার থাকে। যদিও বাবা-ই বরাবরই সন্তানের অভিভাবক।
মনে রাখবেন, তালাক কেবল একটি বিচ্ছেদ নয়, এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া, যার সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে।
আইনি পরামর্শ: তালাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন দক্ষ আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন। আপনার আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক আইনি পদক্ষেপ নিন।