শুধু নিয়ে নয়, যৌতুক দিলেও হতে পারে জেল জরিমানা!

আইন সহায়িকা ব্যানার। “শুধু নিয়ে নয়, যৌতুক দিলেও হতে পারে জেল জরিমানা” - এ বিষয়ে আইনি আলোচনার কথা উল্লেখ করেছেন অ্যাডভোকেট মমিনুল আলম রাসেল এবং নিচে তার নাম ও যোগাযোগের নম্বর রয়েছে।

শুধু নেওয়া নয়, যৌতুক দেওয়া বা দাবি করাও সমান অপরাধ!

“আমরা তো যৌতুক নিইনি, মেয়ের সুখের জন্য ওরা খুশি হয়ে দিয়েছে!” – এই একটি বাক্য কি আপনাকে আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচাতে পারবে?

আমাদের সমাজে একটা বিরাট ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, অপরাধ শুধু বরপক্ষ করে যারা যৌতুক হাত পেতে নেয়। কনেপক্ষ বাধ্য হয়ে বা ‘খুশি হয়ে’ দিলে বুঝি কোনো অপরাধ হয় না। আবার অনেকে ভাবেন, “মুখে একটু দাবিই তো করেছি, এখনো তো টাকা হাতে নিইনি, তাহলে মামলা হবে কীভাবে?”

একজন আইনজীবী হিসেবে আপনাদের এই মারাত্মক ভুল ধারণাটি ভাঙতে চাই। বাংলাদেশের আইন কিন্তু এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং স্পষ্ট।

আইন কী বলে?
আমাদের দেশের ‘যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী, যৌতুক আদান-প্রদানের পুরো প্রক্রিয়াটিকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই আইনের ৩ এবং ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী:

যৌতুক গ্রহণ করা (Taking Dowry): বরপক্ষ বা অন্য কেউ কনেপক্ষের কাছ থেকে যৌতুক গ্রহণ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

যৌতুক প্রদান করা (Giving Dowry): কনেপক্ষ বা অন্য কেউ যদি বরপক্ষকে যৌতুক প্রদান করে, তবে আইন অনুযায়ী তারাও সমান অপরাধী।

যৌতুক দাবি করা (Demanding Dowry): সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যৌতুক সরাসরি হাতে না পেলেও, বিয়ের শর্ত হিসেবে যদি কেবল মুখেও দাবি করা হয়, তবে দাবি করার মুহূর্ত থেকেই তা একটি পূর্ণাঙ্গ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

শাস্তি ঠিক কতটা ভয়াবহ?
আইন অনুযায়ী, যৌতুক দেওয়া, নেওয়া কিংবা সরাসরি দাবি করা- এই তিনটির যেকোনো একটির প্রমাণ পাওয়া গেলে অপরাধীর সর্বোচ্চ ৫ বছর এবং সর্বনিম্ন ১ বছরের কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

মামলা-মোকদ্দমার ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায়, বরপক্ষ দাবি করার পর কনেপক্ষ গোপনে বা ধার-দেনা করে সেই দাবি পূরণ করে। পরবর্তীতে সম্পর্ক খারাপ হলে যখন মামলা হয়, তখন কনেপক্ষও ‘যৌতুক দেওয়ার’ কারণে আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে যেতে পারেন।

আইনের মূল উদ্দেশ্য সমাজ থেকে এই ব্যাধি দূর করা। তাই অত্যাচার সহ্য করে গোপনে যৌতুক দিয়ে অপরাধের অংশীদার হবেন না। যৌতুক দাবি করার সাথে সাথেই আইনি পদক্ষেপ নিন, কারণ আইন অনুযায়ী কেবল দাবি করাটাই ওই ব্যক্তিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য যথেষ্ট।

Share the Post:
Scroll to Top