‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার’ বনাম ‘ভরণপোষণ’

“স্ত্রী করেছেন ভরণপোষণের মামলা, স্বামী করলেন দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা – আইনি এই দাবার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় কার হয়?”

আমার এক মক্কেল, নাম তার মো. ইকরাম উল্লাহ। তার স্ত্রী বেশ কয়েক মাস ধরে আলাদা থাকছেন এবং ইকরাম সাহেবের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণ আদায়ের মামলা করেছেন। এদিকে ইকরাম সাহেবের দাবি, “স্ত্রী নিজে থেকেই চলে গেছেন, আমি কেন তাকে টাকা দেবো? বরং আমি মামলা করবো যেন সে ফিরে আসে।”

ইকরাম সাহেবের মতো অনেক স্বামীই মনে করেন, স্ত্রী মামলা করার পর পাল্টা মামলা করলেই হয়তো ভরণপোষণ দেওয়া থেকে বাঁচা যাবে। অন্যদিকে অনেক স্ত্রী ভাবেন, স্বামী যদি দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা করেন, তবে বুঝি নিজের করা ভরণপোষণের মামলাটি খারিজ হয়ে যাবে। এই পাল্টাপাল্টি আইনি লড়াইয়ের মারপ্যাঁচ বুঝতে না পেরে সাধারণ মানুষ প্রায়ই বিভ্রান্ত হন।

আইনগত ব্যাখ্যা ও পারস্পরিক সম্পর্ক:

বাংলাদেশে প্রচলিত পারিবারিক আইনে এই দুটি মামলার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে:

ভরণপোষণ মামলার মূল ভিত্তি: স্ত্রী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে স্বামী তাকে ভরণপোষণ দিচ্ছেন না বা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন, তবে আদালত স্বামীকে, তার স্ত্রীর জন্য মাসিক ভাতা প্রদানের আদেশ দেবেন।

দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মামলার ভূমিকা: স্বামী যদি এই মামলায় জয়ী হন এবং আদালত রায় দেন যে,  স্ত্রী “কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই” স্বামীর অবাধ্য হয়ে আলাদা থাকছেন, তবে স্বামী ওই স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে আইনত বাধ্য নন (তবে সন্তানদের ভরণপোষণ দিতেই হবে)।

পাল্টাপাল্টি লড়াই: সাধারণত স্ত্রী ভরণপোষণ মামলা করার পর স্বামী নিজেকে বাঁচাতে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা করেন। আদালত তখন দেখেন, স্ত্রী কি পরিস্থিতির শিকার হয়ে আলাদা থাকছেন, নাকি কেবল স্বামীর অবাধ্য হওয়ার জন্য।

আইন কী বলে বনাম বাস্তবে কী হয়:

আইন কী বলে: আইন অনুযায়ী, স্বামী যদি দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রি পেয়ে যান, তবে স্ত্রীর ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার সাময়িকভাবে স্থগিত হতে পারে।

বাস্তবে কী হয়: বাস্তবে আদালত খুব গুরুত্বের সাথে দেখেন কেন স্ত্রী আলাদা থাকছেন। যদি স্ত্রী প্রমাণ করতে পারেন যে স্বামীর নির্যাতন বা দেনমোহর পরিশোধ না করার কারণে অন্য কোন যৌক্তিক কারণে তিনি আলাদা আছেন, তবে স্বামীর ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার’ মামলাটি খারিজ হয়ে যায় এবং স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়ার আদেশ বহাল থাকে। অর্থাৎ শুধু পাল্টা মামলা করলেই দায়মুক্তি পাওয়া যায় না।

আপনার জন্য পরামর্শ: এ ধরণের সমস্যা মোকাবেলার জন্য একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করবেন। কেননা, আইনকানুনগুলো একই হলেও, প্রতিটি ঘটনা ও প্রেক্ষাপট সাধারণত ভিন্ন হয়, তাই এর উপস্থাপনও ভিন্ন হবে। উপরোক্ত আলোচনায়, সাধারণভাবে প্রতিকারগুলো কী কী হতে পারে সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top