‘পরকীয়া’ পরিবার ভাঙনের প্রথম ধাপ! প্রতিকারগুলো কী কী?

বিশ্বাসভঙ্গের এক মুহূর্ত, ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি সংসার!

“আমাদের সবই তো ছিল, তবে কেন সে অন্য কারো প্রতি ঝুঁকল?” – এই একটি প্রশ্ন প্রতিদিন অসংখ্য সাজানো সংসারকে আদালতের বারান্দায় টেনে আনছে। আমাদের সমাজে পরকীয়া এখন এক নীরব ঘাতক, যা কেবল একটি সম্পর্ক নয়, বরং পুরো একটি পরিবারকে তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সম্প্রতি এক ব্যক্তির সাথে কথা হয়েছিল আমার। সংক্ষেপে তার ঘটনাটা বলছি। ভদ্রলোকের দীর্ঘ ১৫ বছরের সাজানো সংসার ছিল। তার স্ত্রী পরকীয়ার জেরে সন্তানদের ফেলে অন্য একজনের সাথে চলে যান। কিন্তু গল্পের শেষ এখানেই নয়। স্ত্রী যখন বুঝতে পারলেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন, তখন তিনি আবার ফিরে আসতে চাইলেন।

কিন্তু ততক্ষণে স্বামী দণ্ডবিধির নিদির্ষ্ট ধারায় মামলা করে দিয়েছেন। আর অন্যদিকে সন্তানদের মনেও মায়ের প্রতি জন্ম নিয়েছে তীব্র ঘৃণা। একটি ভুল সিদ্ধান্ত আজ দুটি শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভদ্রলোকের শেষ কথাটা এখনও আমার মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, “আমাদের সবই তো ছিল, তবে কেন সে অন্য কারো প্রতি ঝুঁকল?”

আইনগত ব্যাখ্যা: দণ্ডবিধি ৪৯৭ ধারা ও পরকীয়া

অনেকে মনে করেন আধুনিক যুগে পরকীয়ার কোনো আইনি শাস্তি নেই। এটি একটি ভুল ধারণা। বাংলাদেশে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা এখনো পূর্বের মতোই বহাল আছে। আইনি বিষয়গুলো সংক্ষেপে জেনে নিন:

১. শাস্তির বিধান: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির স্ত্রীর সাথে তার স্বামীর সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে সেটি ‘ব্যভিচার’ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য দোষী ব্যক্তির ৫ বছর পর্যন্ত জেল, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

২. স্ত্রীর অধিকার: স্বামী পরকীয়ায় লিপ্ত হলে স্ত্রী বিচ্ছেদ না করেও পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণ (Maintenance) এবং দেনমোহর (Dower) আদায়ের মামলা করতে পারেন।

৩. সন্তানের হেফাজত: পরকীয়ার জেরে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে, দোষী পক্ষ অনেক ক্ষেত্রেই নৈতিক স্খলনের কারণে সন্তানদের জিম্মা বা হেফাজত (Custody) পাওয়ার লড়াইয়ে আইনিভাবে পিছিয়ে পড়েন।

৪. ডিজিটাল এভিডেন্স: বর্তমান সময়ে চ্যাট স্ক্রিনশট, অডিও রেকর্ড বা ভিডিও ফুটেজ আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়, যা আপনার আইনি অবস্থানকে শক্তিশালী করে।

একটা কথা আমাদের সকলের জেনে রাখা দরকার, পরকীয়া পরিবার ভাঙনের প্রথম ধাপ। এটি ক্ষণিকের আনন্দ দিলেও এর দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল হলো, মামলা, জেল এবং আজীবনের সামাজিক গ্লানি। তাই আবেগের বশবর্তী হয়ে নিজের ও সন্তানদের জীবন সংকটে ফেলবেন না। মনে রাখবেন, আইন সবার জন্য সমান হলেও প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আপনার অধিকার এবং সুরক্ষার জন্য কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন। সঠিক আইনি দিকনির্দেশনা আপনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top