কাবিননামার একটি কলাম, একটি মাত্র বাক্য, একজন নারীর পুরো জীবন বদলে দিতে পারে!
কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, বেশিরভাগ নারী জানেনই না, তারা কাবিননামায় কী সই করছেন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি “তালাক-ই-তাফওয়ীজ” অনেক সময়ই ফাঁকা থেকে যায়।
তালাক-ই-তাফওয়ীজ কী?
সহজ ভাষায়, তালাক-ই-তাফওয়ীজ হলো স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেওয়া তালাক প্রদানের অধিকার। অর্থাৎ, স্বামী যদি নির্দিষ্ট শর্ত ভঙ্গ করেন, স্ত্রী নিজেই আইনসম্মতভাবে তালাক কার্যকর করতে পারেন। কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে এই মহা-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিই উল্লেখ থাকে।
তালাক-ই-তাফওয়ীজ না থাকলে কী হয়?
যদি কাবিননামায় এই ঘরটি ফাঁকা থাকে বা যদি স্বামী এই ঘরটিতে ‘না’ লিখে দেন তাহলে স্ত্রী সরাসরি স্বামীকে তালাক দিতে পারেন না। তখন খোলা তালাকের জন্য দেনদরবার করতে হয় অথবা আদালত বা সালিসে যেতে হয়। যা একাধারে স্ত্রীর জন্য মানসিকভাবে কষ্টকর হয়; অন্যদিকে অনেক সময়ই স্ত্রী স্বামীর হাতে জিম্মি অবস্থায় পড়েন।
এছাড়া খোলা তালাক বা আদালতের মাধমে তালাক প্রক্রিয়া সাধারণত দীর্ঘ হয়ে থাকে। ফলশ্রুতিতে বাস্তবে দেখা যায়, অনেক নারী বছরের পর বছর একটি অকার্যকর সম্পর্কে আটকে থাকেন।
তালাক-ই-তাফওয়ীজ থাকলে কী সুবিধা?
যদি কাবিননামায় নারীর জন্য এই অধিকার উল্লেখ থাকে, তাহলে স্ত্রী নিজেই তালাক কার্যকর করতে পারেন। দীর্ঘ আইনি জটিলতায় যেতে হয় না, নির্যাতন বা অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তাবায়ন সম্ভব। এতে নারীর সম্মান ও নিরাপত্তাও সুরক্ষিত থাকে।
বস্তুত এটি কোনো “বিয়ে ভাঙার হাতিয়ার” নয়, এটি একটি জীবনের নিরাপত্তা বেল্ট।
আইন কী বলে?
বাংলাদেশে Muslim Family Laws Ordinance, 1961 অনুযায়ী, স্বামী চাইলে তালাকের অধিকার স্ত্রীকে অর্পণ করতে পারেন এবং কাবিননামায় লিখিত থাকলে সেটি আইনগতভাবে কার্যকর হয়ে যায়। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ বৈধ ও স্বীকৃত প্রধা; যা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য কল্যাণকর।
তাহলে সমস্যা কোথায়?
সমস্যা আইন নয়, সমস্যা অনজ্ঞতা। তাড়াহুড়া করে বিয়ে কাজীর বলা কথায় সই “এগুলো পরে দেখা যাবে”এই মানসিকতা। অথচ সেই একটি বাক্য ভবিষ্যতে নারীর সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারত।
আইনজীবী হিসেবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা: সহজ তালাক-ব্যবস্থা একজন নারীর জন্য মোটেও আনন্দের কোন খবর নয়। কিন্তু, স্ত্রী হিসেবে যে নারীরা যখন তার সবচেয়ে আপন মানুষটার দ্বারা বীভৎসভাবে অত্যাচারিত হয়, নিঃগৃহীত হয়, মুক্তির উপয় খোঁজে, তার জন্য অবশ্যই এই প্রতিবেদন একটু আলোর সন্ধান দিবে, একটু মুক্ত বাতাসে স্বাস নেয়ার উপায় খুঁজে দিবে।
আপনার জন্য পরামর্শ: বিয়ের সময় কাবিননামা নিজে পড়ুন প্রতিটি ঘর বুঝে সই করুন প্রয়োজনে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, আইন জানাটা অবিশ্বাস নয় বরং আত্মসম্মানের।