বিয়ের উপহার নাকি আইনি অপরাধ? জেনে নিন সীমান্তরেখাটি!
“মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ফ্রিজ-টিভি বা আসবাবপত্র দিচ্ছি, এটা তো যৌতুক না, উপহার!” কিংবা “বিয়ের সময় ছেলের পক্ষ থেকে কনেকে যে গহনা দেওয়া হলো, সেটাও কি যৌতুকের আওতায় পড়বে?”
আমাদের সমাজে বিয়ের আদান-প্রদান নিয়ে এই বিভ্রান্তিটা ঘরে ঘরে। অনেক সময় দেখা যায়, মনের সুখে দেওয়া উপহারকেও পরবর্তীতে যৌতুক বলে মামলা করে দেওয়া হচ্ছে, আবার অন্যদিকে ‘উপহারের’ মোড়কে জোর করে যৌতুক আদায় করা হচ্ছে।
আজ আপনাদের সামনে আইনের চোখে যৌতুক এবং উপহারের আসল পার্থক্যটা খুব সহজ ভাষায় পরিষ্কার করছি।
আইনের চোখে যৌতুক আসলে কী?
যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ২(১) ধারা অনুযায়ী, যৌতুক হলো সেই সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত, যা বিয়ের পণ হিসেবে এক পক্ষ অন্য পক্ষের কাছে সরাসরি দাবি করে।
সহজ কথায়, যদি বিয়ের শর্ত হিসেবে, তা বিয়ে বহাল থাকার আগে, বিয়ের সময় বা বিয়ের পরে যেকোনো সময়, কোনো কিছু দাবি করা হয় এবং তা দিতে বাধ্য করা হয়, সেটাই আইনত যৌতুক।
তাহলে ‘উপহার’ এবং ‘যৌতুকের’ পার্থক্য কোথায়?
আইন কিন্তু বিয়ের স্বাভাবিক আনন্দ বা উপহার দেওয়াকে নিষিদ্ধ করে না। পার্থক্যটা লুকিয়ে আছে ৩টি জায়গায়:
১. দাবি বনাম স্বেচ্ছায় দান: বর বা কনেপক্ষ যদি কোনো রকম চাপ বা শর্ত ছাড়া, সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় আনন্দ মনে কিছু দেয়, তবে তা উপহার। কিন্তু যদি বলা হয়, “মোটরসাইকেল বা আসবাবপত্র না দিলে বিয়ে হবে না” কিংবা “সংসার করতে হলে টাকা দিতে হবে” তবে সেটাই যৌতুক।
২. বিয়ের শর্ত: উপহার কখনো বিয়ের শর্ত হয় না। কিন্তু যৌতুক হলো বিয়ের একটি অবৈধ চুক্তি বা শর্ত।
৩. মুসলিম পারিবারিক আইনের দেনমোহর: মনে রাখবেন, কনের ধর্মীয় অধিকার অনুযায়ী বরপক্ষ থেকে যে ‘দেনমোহর’ বা ‘যৌতুক বাদে অন্যান্য সামগ্রী’ (যেমন কনেকে দেওয়া বিয়ের গহনা) দেওয়া হয়, তা কখনোই যৌতুক নয়।
একটি জরুরি আইনি সতর্কতা:
যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ও ৪ ধারা অনুযায়ী, যৌতুক দেওয়া, নেওয়া বা যৌতুকের দাবি করা, সবই সমান অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
তাই বিয়ের আসরে বা বৈবাহিক জীবনে যেকোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখুন। সামাজিক সম্মান রক্ষার্থে এবং আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে উপহার আর যৌতুকের এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি সবার জানা থাকা উচিত।