যে ভুলগুলোর জন্য সন্তানের জিম্মাদারি হারাতে হতে পারে?

আপনার জেদ বা ভুল পদক্ষেপ কি সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে?

পারিবারিক আদালতে যখন সন্তানের হেফাজত বা জিম্মাদারী নিয়ে লড়াই হয়, তখন অনেক বাবা-মা আবেগপ্রবণ হয়ে এমন কিছু ভুল করেন যা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজের মামলাটিকেই দুর্বল করে দেয়। আজ কথা বলবো সেই ভুলগুলো নিয়ে।

একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ শুনুন। আমার দেখা একটি মামলায়, মা সন্তানের জিম্মা পাওয়ার জন্য বাবার বিরুদ্ধে কিছু গুরুতর অভিযোগ আনলেন। কিন্তু অভিযোগগুলো ছিল সব মিথ্যা। তিনি ভেবেছিলেন এতে আদালত দ্রুত তার পক্ষে রায় দেবেন।

কিন্তু শুনানির সময় যখন প্রমাণিত হলো যে অভিযোগগুলো কেবল প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সাজানো ছিল, তখন আদালত মায়ের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। ফলাফল? সেই মায়ের পক্ষেই মামলাটি পরিচালনা করা কঠিন হয়ে গেল!

অভিভাবকত্ব মামলায় সাধারণ গুরুতর যে ভুলগুলো হয়-
মিথ্যা অভিযোগ ও প্রতিশোধপরায়ণতা: অপর পক্ষকে ছোট করতে গিয়ে ঢালাও মিথ্যা বলা। সন্তানকে নিজের কাছে রাখবার অন্য অপরপক্ষের বিরুদ্ধে যা নয় তাই মিথ্যা অভিযোগ আনায়ন। মনে রাখবেন, আপনি অভিযোগ আনলেই হবে না, আপনাকে তা প্রমাণ করতে হবে। নচেৎ আপনিই উল্টো ফেঁসে যাবেন।

সন্তানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার: অপর পক্ষের সাথে দেখা করতে বাধা দেওয়া বা সন্তানের কানে বিষ ঢোকানো। সন্তানকে ব্যবহার করে, যদি মামলায় জেতার চেষ্টা করেন, তা সম্পূর্ণ ভুল একটি সিদ্ধান্ত। এগুলো আপনার মামলাকে উল্টো দূর্বল করে দেয়। আপনার মনে রাখতে হবে, আপনি একজন যোগ্য বিচারকের কাছে বিচার প্রার্থনা করছেন। তিনি আপনার আমার চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ।

আদালতের আদেশ অমান্য করা: সাময়িকভাবে সন্তানকে কাছে রাখার আদেশ পেলে সেটির অপব্যবহার করা। যেটি খুব বেশি দেখা যায়। আদালত থেকে সন্তানকে কাছে রাখার সুযোগ পেলে সেটিকে চিরস্থায়ী ভেবে ভুল করে বসেন অনেকে। অনেক সময় আদালত প্রয়োজন বোধ করলে, সন্তানকে উভয়ের কাছে রেখে পরীক্ষা করে দেখেন, কে সন্তানের সর্বোত্তম মঙ্গল বিধান করবেন।

আইনগত ব্যাখ্যা: Guardians and Wards Act, 1890 অনুযায়ী, আদালত অভিভাবক নিযুক্ত করার সময় কেবল আবেদনকারীর অধিকার দেখেন না বরং দেখেন কার কাছে থাকলে সন্তানের ‘সর্বোত্তম স্বার্থ’ (Welfare of the Minor) রক্ষিত হবে। আপনি যখন মিথ্যা অভিযোগ করেন বা রাগের বশবর্তী হয়ে কাজ করেন, তখন আদালত ধরে নেন যে আপনার আচরণ সন্তানের নৈতিক বিকাশের জন্য উপযোগী নয়।

অনেক মা আইনি লড়াইয়ে নামতে ভয় পান এই ভেবে যে, তার হয়তো পর্যাপ্ত টাকা নেই বা তিনি একা। মনে রাখবেন, সন্তানের জিম্মা পাওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের অধিকার অত্যন্ত জোরালো। শুধু জেদ বা রাগের মাথায় ভুল পথে না হেঁটে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আইনি লড়াই করুন। সত্য সবসময়ই আপনাকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top