স্বামী পরকীয়ায় লিপ্ত? ভেঙে না পড়ে জানুন আপনার আইনি বিধান!
তিলে তিলে গড়ে তোলা সংসার যখন পরকীয়ার কারণে ভাঙনের মুখে পড়ে, তখন দিশেহারা হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আবেগ দিয়ে নয়, পরিস্থিতি সামলাতে হয় বুদ্ধি এবং আইন দিয়ে।
সম্প্রতি একজন অসহায় নারী জানিয়েছেন তার কথাগুলো। দীর্ঘ ১০ বছরের সংসার। হুট করে জানতে পারলেন তার স্বামী অন্য এক নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি (স্ত্রী) প্রথমে ঝগড়া করলেন, তারপর কান্নাকাটি। কিন্তু ফলাফল হলো উল্টো।
স্বামী বাড়ি আসা কমিয়ে দিলেন; ফিরলেও ফোন লুকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চলতে থাকলো। সংসারের প্রতি আগ্রহ ছিল না বিন্দুমাত্রও, এমন কি সন্তানদের প্রতিও উদাসিন হয়ে পড়লেন ধীরে ধীরে।
প্রশ্নের মুখে, স্বামী প্রথমে অস্বীকার করেছিলেন, কিন্তু উপায়ান্ত না পেয়ে, পরে স্বীকার নিয়েছিলেন, হ্যাঁ, অন্য সম্পর্কে জড়িয়েছেন! স্ত্রী ভেবেছিলেন হয়তো স্বামীর পরকীয়ার প্রতিকার মানে ‘শুধু ডিভোর্স’। কিন্তু না, তিনি যখন আইনি পরামর্শ নিলেন, তখন জানলেন বিচ্ছেদ ছাড়াও অধিকার আদায়ের পথ আছে।
স্বামীকে পরকীয়া থেকে ফেরাতে স্ত্রীর আইনি পদক্ষেপগুলো কী?
অনেকেই প্রশ্ন করেন, “স্বামীকে কি পরকীয়া থেকে ফেরাতে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ নেওয়া যায়?” এর সরাসরি উত্তর হলো ‘না’। আদালত যেমন কাউকে ভালোবাসতে বাধ্য করতে পারে না; ঠিক তেমনি, পরকীয়া বন্ধে সরাসরি “স্টে অর্ডার” দেয় না। তবে আইনগতভাবে বিষয়টি যেভাবে কাজ করে, জানুন-
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার (Restitution of Conjugal Rights): যদি স্বামী পরকীয়ার কারণে স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় না রাখেন বা আলাদা থাকতে শুরু করেন, তবে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার’-এর মামলা করতে পারেন। আদালত তখন স্বামীকে স্ত্রীর সাথে ঘরসংসার করার নির্দেশ দিতে পারেন।
ভরণপোষণ (Maintenance): স্বামী পরকীয়ায় লিপ্ত থাকলেও তিনি স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে আইনত বাধ্য। যদি তিনি অবহেলা করেন, তবে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে দেনমোহর ও মাসিক খোরপোষের মামলা করতে পারেন।
অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে: যদি স্বামী পরকীয়ার জেরে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে সেটি দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এক্ষেত্রে স্বামীর জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
তথ্য সংগ্রহ: মনে রাখবেন, অভিযোগ করলেই হয় না, প্রমাণ লাগে। স্বামীর পরকীয়ার মেসেজ, ছবি বা কথোপকথন প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা যায়। তবে এই তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও আইনি নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
আরও একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, উপরোক্ত প্রতিকারগুলো পরকীয়া আক্রান্ত স্বামীর স্ত্রী জন্য। আর যে নারী পরকীয়ার জড়িয়েছে, তিনি যদি বিবাহিত হন, তার জন্য আইনের পৃথক বিধান রয়েছে। এছাড়া পারিবারিক ও সামাজিকভাবে স্বামীর পরকীয়া ঠেকানোর উপায় নিয়ে আলোচনাও আসবে পেজে। লক্ষ্য রাখুন।