সত্যি কি পরকীয়ার শাস্তি নেই

”মানুষ কেন পরকীয়া করে, গবেষণা কী বলছে”- কিছুদিন আগে প্রথম আলো পত্রিকায় পরকীয়া নিয়ে প্রতিবেদন, যত্নসহকারে পড়লাম। গবেষণার তথ্য দিয়েছে। শাস্তির কথা কিছু বলেনি। সে সম্পর্কে একজন আইনজীবী হিসেবে আলোকপাত করলাম। পড়ুন। প্রয়োজনীয় মনে হলে, সবার সাথে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ রইল।


কিছুদিন আগের একটা ঘটনাও এ সম্পর্কে উল্লেখ করা যায়। চেম্বারে বসে আছি, তখন এক ক্লায়েন্ট এসে বললেন, “অ্যাডভোকেট সাহেব, আমার স্বামী তো অন্য একজনের সাথে সম্পর্ক রেখেছে। সে আমাকে বলছে, বাংলাদেশে পরকীয়ার কোনো শাস্তি নেই, ভারতে তো এই আইনটাই তুলে দিয়েছে।” তার এই কথা শুনে আমি বুঝতে পারলাম, সমাজে ভুল তথ্য কী ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে।

মানুষ এক দেশের আইন অন্য দেশের আইনের সাথে মিশিয়ে ফেলছে, আর এর ফলে নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পরকীয়া একটি সামাজিক ব্যাধির মতো মহামারি আকার ধারণ করেছে।

আমাদের চারপাশে পরকীয়ার মতো ঘটনা এখন সাধারণ হয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমের সহজলভ্যতা এবং পারিবারিক বন্ধন শিথিল হওয়ার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। পরকীয়া কেবল একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি।

এটি শুধু একটি পরিবারকে ধ্বংস করে না বরং এর প্রভাব সমাজের ওপরও পড়ে। সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হল, মানুষ ভাবছে, ভারতে পরকীয়াকে (যদিও ভিন্ন প্রেক্ষাপট) বৈধতা দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশেও এর কোনো শাস্তি নেই।

বাংলাদেশে পরকীয়ার আইন ও শাস্তি-
বাংলাদেশে পরকীয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী, পরকীয়া ব্যভিচার হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে, এই আইন প্রয়োগ করতে হলে, এর ব্যাখ্যাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৯৭ ধারা: এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো বিবাহিত নারী তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের সাথে স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, তাহলে সেই পুরুষটি ব্যভিচারের জন্য অপরাধী হবেন। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

নারীর শাস্তি: এই ধারায় ব্যভিচারের জন্য নারীর কোনো শাস্তির বিধান নেই। তবে, পরকীয়ার কারণে স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারেন এবং এই ক্ষেত্রে স্ত্রী ভরণপোষণ নাও পেতে পারেন।

ভারতের পরকীয়া আইন-
ভারতে ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট পরকীয়ার ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে এটিকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এর মানে হলো, এখন ভারতে পরকীয়ার জন্য কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তবে, এর মানে এই নয় যে পরকীয়াকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। পরকীয়া এখনও বিবাহবিচ্ছেদের একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

একটি কথা এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দেশের নাগরিকদের প্রতিদিনের জীবনে যে সম্পর্কগুলোকে পরকীয়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে সেগুলো আসলে, এই ব্যাখ্যায় ফেলা যাচ্ছে না। বস্তুতপক্ষে, সেই সম্পর্কগুলো অন্যনামে পরিচিত হতে পারে। যদি এক কথায় ব্যাখ্যা করতে হয়, তবে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বলাই শ্রেয়। সে সম্পর্কে অন্যদিন বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আপনার করণীয়
আইন সম্পর্কে জানুন: আপনার নিজের দেশের আইন সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।

পেশাদার পরামর্শ নিন: আপনার কোনো আইনি সমস্যা থাকলে একজন অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেটের সঙ্গে পরামর্শ করুন। পরিস্থিতি অনুযায়ী আপনার করণীয় ভিন্ন হতে পারে।

প্রমাণ সংগ্রহ করুন: যদি আপনি পরকীয়ার কারণে আইনি পদক্ষেপ নিতে চান, তবে উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top