দেনমোহর একটি বাধ্যতামূলক ঋণ

প্রশ্নটা খুব অপ্রীতিকর হলেও একজন আইনজীবী হিসেবে আমার কর্তব্য প্রশ্নটা করা এবং এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

আচ্ছা, সম্প্রতি আপনাদের পিতা মৃত্যুবরণ করেছেন। আপনারা ছেলেমেয়েরা বসেছেন, পিতার সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা করতে। মায়ের অংশও হিসেব করেছেন ফরায়েজ অনুযায়ী। তারপর আপনারা নিজেদের অংশ ভাগবাটোয়ারা করছেন। এ অবধি সব ঠিকই আছে।

কিন্তু আপনার মাতার কাছে জানতে চেয়েছেন, তাঁর দেনমোহর আপনাদের পিতা পরিশোধ করেছেন কিনা? নাকি তা মৃত্যুর পর পরিশোধ করবেন, এমনি ভাবে নির্ধারিত ছিল? যাকে বলা হয়, মোহর-ই-মুঅজ্জল।

বাস্তবতা হলো, দেনমোহর স্বামীর উপর স্ত্রীর একটি ঋণ। এটি কোনো উপহার বা উপহারের মতো নয় বরং এটি একটি আইনগত ও আর্থিক বাধ্যবাধকতা। দেনমোহর স্ত্রীর একটি অধিকার, যা তিনি যে কোনো সময় স্বামীর কাছে দাবি করতে পারেন।

এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকার কারণে অনেক সময় স্বামীরা দেনমোহর পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন এবং এর ফলস্বরূপ ভবিষ্যতে পারিবারিক বিরোধ ও আইনি জটিলতা দেখা দেয়। এমনকি একটি অপরিশোধিত ঋণের দায় বহন করতে হয় মৃত্যুর পরেও!

দেনমোহর: স্বামীর উপর স্ত্রীর একটি ঋণ
মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, দেনমোহর হলো স্বামীর উপর স্ত্রীর একটি ঋণ। এই ঋণ বিবাহের সময় বা বিবাহ চলাকালীন সময়ে নির্ধারিত হয় এবং এটি স্বামীকে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।

প্রকারভেদ: দেনমোহর দুই প্রকার হতে পারে:

আশু বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর (Prompt Dower): এটি বিয়ের পরপরই স্ত্রীর দাবির প্রেক্ষিতে স্বামীকে তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হয়।

বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower): এটি বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীকে পরিশোধ করতে হয়। কাবিননামার ১৪ নম্বর কলাম খেয়াল করুন; যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ‘দেনমোহরের কি পরিমাণ মুয়াজ্জল এবং কি পরিমাণ মু’অজ্জল’।

সুতরাং দেনমোহরকে একটি ঋণ হিসেবেই গণ্য করা হয়।  যদি স্বামী তার জীবদ্দশায় দেনমোহর পরিশোধ করতে না পারেন, তবে তার মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে; এমনই বিধান।

দাবির অধিকার: একজন স্ত্রী যেকোনো সময় স্বামীর কাছে দেনমোহর দাবি করতে পারেন। যদি স্বামী দেনমোহর দিতে অস্বীকার করেন, তবে স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে অন্য কোন লেখায়।

মনে রাখবেন, দেনমোহর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি স্ত্রীর একটি আইনগত অধিকার এবং স্বামীর একটি আইনগত দায়িত্ব।

১. আইনি পরামর্শ: দেনমোহর সংক্রান্ত কোনো জটিলতায় একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন।
২. সঠিক প্রমাণ: দেনমোহর পরিশোধের সময় লিখিত প্রমাণ রাখুন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা দেখা না দেয়।

জন্য পরামর্শ: প্রতিটি মামলার প্রেক্ষাপট এবং বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আইনকানুনগুলো একই হলেও উপস্থাপনের ধরনে ফলের ভিন্নতা আসে। তাই যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন। একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখবেন, সঠিক উপস্থাপনার অভাবে অনেক সময় সত্য ঘটনাও আদালতের কাছে গুরুত্ব হারায়।

দাম্পত্য, পরকীয়া, পারিবারিক আইন, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাকত্ব ও হেফাজত, নারীর অধিকার এবং অন্যান্য আইনসংক্রান্ত নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে আমাদের পেজটি ফলো করুন।

পোস্টটি শেয়ার করুন, তাতে আপনার কাছের মানুষজন সচেতন হবেন, উপকৃত হবেন।

একটি ঘোষণা। লেখাগুলো আমার প্রকাশিতব্য বইয়ের পাণ্ডুলিপির অংশ। সেই ধারাবাহিকতায় কিছু কিছু নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। কপি-পেস্ট করলে লেখকের নাম পরিচয়সহ করবেন। [একই ধাচের কিছু পোস্ট পূর্বেও লেখা হয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনা করে পুনরায় দেয়া হলো, আরও উন্নত করে]

অ্যাডভোকেট মমিনুল আলম রাসেল

এলএলএম, এমবিএ, এমএ, ডিসিএপি

আইনজীবী, লেখক, ফ্যামিলি কনসালটেন্ট

সাবেক টেলিকম বিশেষজ্ঞ [রবি আজিয়াটা লি.]

01715747777, 01641000008

#AdvocateMaminulAlamRussel #ফ্যামিলিকনসালটেন্ট #ন্যায্যতাশেয়ারকরুন #আইনসহায়িকা 

#LegalGuidebd 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top