বাবা চলে যাওয়ার পর কন্যাসন্তান কি শুধুই সান্ত্বনা পাবে?

আইন সহায়িকা ব্যানার। “কন্যাসন্তানের অধিকার: সম্পত্তি হস্তান্তরের সহজ হিসাব” - এ বিষয়ে আইনি আলোচনার কথা উল্লেখ করেছেন অ্যাডভোকেট মমিনুল আলম রাসেল এবং নিচে তার নাম ও যোগাযোগের নম্বর রয়েছে।

বাবা চলে যাওয়ার পর কন্যাসন্তান কি শুধুই সান্ত্বনা পাবেন, নাকি আইনি অধিকারও পাবেন? চলুন সহজ হিসেবটা জেনে নিই।

আমাদের সমাজে একটা দুঃখজনক বাস্তবতা প্রায়ই দেখা যায়। বাবা মারা যাওয়ার পর অনেক পরিবারেই কন্যাসন্তানদের কেবল সান্ত্বনা আর আবেগ দিয়ে বিদায় করার চেষ্টা করা হয়। সম্পত্তি ভাগাভাগির কথা উঠলেই নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যাওয়া হয়, কিংবা ভাইদের চাপে বোনেরা নিজেদের অধিকার চাইতে কুণ্ঠাবোধ করেন। অনেকে আবার সঠিক নিয়মের অস্পষ্টতার কারণে বুঝতেই পারেন না যে আইনত তিনি কতটুকু সম্পত্তির মালিক।

একজন আইন পেশাজীবী হিসেবে প্রতিনিয়ত আমি এমন অসংখ্য পরিবারের মুখোমুখি হই, যেখানে সঠিক তথ্যের অভাবে নারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ, মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কন্যাসন্তানের অধিকার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং বাধ্যতামূলক।

আসুন, কোনো জটিল আইনি পরিভাষা ছাড়াই একদম সহজ ৩টি গাণিতিক ছকে জেনে নিই বাবার সম্পত্তিতে কন্যাসন্তানের প্রকৃত অধিকার কতটুকু:

১. যদি কোনো ভাই না থাকে এবং কন্যাসন্তান একজন হন

কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর যদি তার কোনো পুত্রসন্তান (ভাই) না থাকে এবং কেবল একটিমাত্র কন্যাসন্তান থাকে, তবে সেই কন্যা বাবার রেখে যাওয়া মোট সম্পত্তির অর্ধেক বা ২ ভাগের ১ ভাগ পাবেন। বাকি সম্পত্তি অন্যান্য অবশিষ্টভোগী অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন হবে।

২. যদি কোনো ভাই না থাকে এবং কন্যাসন্তান একাধিক হন

যদি মৃত ব্যক্তির কোনো পুত্রসন্তান না থাকে, কিন্তু কন্যাসন্তান দুইজন বা তার বেশি হন, তবে তারা সবাই মিলে বাবার সম্পত্তির দুই-তৃতাংশ বা ৩ ভাগের ২ ভাগ পাবেন। এই অংশটি সকল বোনের মধ্যে সমানভাগে ভাগ হবে।

৩. যদি কন্যাসন্তানের সাথে ভাই (পুত্রসন্তান) থাকে

উত্তরাধিকারের সবচেয়ে সাধারণ নিয়ম এটি। যদি মৃত ব্যক্তির ছেলে এবং মেয়ে উভয়েই জীবিত থাকে, তবে কন্যারা আর নির্দিষ্ট অংশ (যেমন: অর্ধেক বা দুই-তৃতাংশ) পাবেন না। তখন তারা অবশিষ্টভোগী হিসেবে ভাইদের সাথে সম্পত্তি পাবেন। হিসেবটি হলো— “এক ছেলের অংশ, দুই মেয়ের অংশের সমান” (২:১ অনুপাতে)। অর্থাৎ, ভাই যা পাবেন, বোন তার ঠিক অর্ধেক পাবেন।

আইনি রেফারেন্স:

মুসলিম পারিবারিক আইন ও শরিয়াহ্ অনুযায়ী, পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নিসায় কন্যাসন্তানদের এই অধিকার ও হিসেবটি সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও এই উত্তরাধিকার নীতি হুবহু কার্যকর এবং আইনত তা লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই।

বিশেষ পরামর্শ: পৈতৃক সম্পত্তি কোনো দয়া বা দান নয়, এটি আপনার আইনি ও ধর্মীয় অধিকার। লোকলজ্জা বা সম্পর্কের অবনতির ভয়ে নিজের অধিকার ছেড়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের অধিকার জানুন এবং তা বুঝিয়ে নিন।

Share the Post:
Scroll to Top