স্বামী কখন স্ত্রীকে  ভরণপোষণ দিতে বাধ্য নন?

আইন সহায়িকা ব্যানার। “স্বামী কখন স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য নন?” এ বিষয়ে আইনি আলোচনার কথা উল্লেখ করেছেন অ্যাডভোকেট মমিনুল আলম রাসেল এবং নিচে তার নাম ও যোগাযোগের নম্বর রয়েছে।

প্রিয় পাঠক, কয়েকদিন আগে আমরা জেনেছি স্ত্রীর ভরণপোষণ পাওয়া তার অধিকার। কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত আইন এবং শরিয়াহ বিধান অনুযায়ী কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে স্বামী এই ভরণপোষণ দিতে বাধ্য নন। এমন একটি প্রশ্ন দেয়া হয়েছিল আমার পেজে। অনেকেই বিষয়টাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজ আইনের ভাষায় এই পরিস্থিতিগুলোকে সহজভাবে তুলে ধরা হলো:

১. স্ত্রী অবাধ্য হলে (Nushuz)
যদি কোনো স্ত্রী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই স্বামীর অবাধ্য হন বা স্বামীর সাথে বসবাস করতে অস্বীকার করেন, তবে তিনি ভরণপোষণের অধিকার হারাতে পারেন। আইন অনুযায়ী, স্বামী যদি স্ত্রীকে বসবাসের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ দেন এবং স্ত্রী কোনো কারণ ছাড়াই স্বামীর ঘর ত্যাগ করেন, তবে স্বামী তাকে খোরপোশ দিতে বাধ্য নন।

২. স্ত্রী নিজ ইচ্ছায় আলাদা থাকলে
স্বামী যদি স্ত্রীকে নিজের সাথে রাখতে আগ্রহী হন এবং সংসার চালিয়ে যাওয়ার জন্য আন্তরিক চেষ্টা করেন, কিন্তু স্ত্রী যদি জেদ করে বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত কারণে স্বামীর অনুমতি ছাড়া বা তার অমতে আলাদা থাকেন, তবে তিনি ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন না। তবে স্বামী যদি নিষ্ঠুর আচরণ করেন বা মারধর করেন, সেক্ষেত্রে আলাদা থাকলেও স্ত্রী খোরপোশ পাবেন।

৩. ইদ্দতকাল অতিক্রান্ত হলে
তালাক কার্যকর হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (সাধারণত ৩ মাস বা ৯০ দিন, অথবা গর্ভবতী হলে সন্তান হওয়া পর্যন্ত) স্বামী খোরপোশ দিতে বাধ্য। কিন্তু এই ইদ্দতকাল পার হয়ে যাওয়ার পর স্বামী আর প্রাক্তন স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে আইনত বাধ্য নন।

৪. স্ত্রীর পুনরায় বিবাহ
যদি তালাকের পর স্ত্রী অন্য কাউকে বিয়ে করেন, তবে বিয়ের দিন থেকেই তিনি তার প্রাক্তন স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার হারাবেন (যদিও তালাকের পর ইদ্দতকাল পার না করলে, স্ত্রী অন্য আর একটি অপরাধে অপরাধী হবেন)। তবে সন্তানদের ভরণপোষণ বাবাকে চালিয়ে যেতে হবে।

৫. স্ত্রী অবরুদ্ধ বা জেলহাজতে থাকলে
যদি স্ত্রী কোনো অপরাধের কারণে জেলহাজতে থাকেন বা অন্য কোনো আইনগত কারণে স্বামীর আয়ত্তের বাইরে থাকেন (যেখানে স্বামী তার প্রতি দাম্পত্য দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না), তবে সেই সময়ের জন্য স্বামী তাকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য নন।

৬. বিবাহ অবৈধ প্রমাণিত হলে
যদি আইনি বা ধর্মীয় কারণে বিয়েটি গোড়া থেকেই বাতিল বা অবৈধ (Void Marriage) হিসেবে গণ্য হয়, তবে সেক্ষেত্রে স্ত্রী আইনত ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন না। ইত্যাদি।

Share the Post:
Scroll to Top