প্রিয় পাঠক, কদিনের আগে দেয়া ‘বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় কি ভরণপোষণের মামলা করা যায়?’ প্রশ্নটায় আপনারা ব্যাপার সাড়া দিয়েছেন। অধিকাংশ মানুষ এ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তাদের জন্য আজকের এই লেখা।
আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ডিভোর্স বা বিচ্ছেদের পরেই খোরপোশ বা ভরণপোষণের প্রশ্ন আসে। কিন্তু আইন বলছে ভিন্ন কথা। বিবাহিত জীবন চলমান থাকা অবস্থাতেও একজন স্ত্রী তার ভরণপোষণের জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।
১. আইন কী বলে?
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ অনুযায়ী, বিবাহ বলবৎ বা বহাল থাকা অবস্থায় কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করেন বা অবহেলা করেন, তবে স্ত্রী সেই স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। অর্থাৎ, ডিভোর্সের কোনো প্রয়োজন নেই; স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সম্পর্ক বজায় রেখেই স্ত্রী তার এই অধিকার দাবি করতে পারেন।
২. একত্রে বসবাসরত অবস্থায় মামলা
স্ত্রী স্বামীর সাথে একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন, কিন্তু স্বামী তার হাত খরচ, চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় পোশাক-আশাকের খরচ দিচ্ছেন না, এমন পরিস্থিতিতেও স্ত্রী ভরণপোষণের মামলা করতে পারেন। আইন অনুযায়ী, ভরণপোষণ মানে কেবল খাবার নয়; বরং স্ত্রীর মর্যাদা ও স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী মানসম্মত জীবনযাপনের যাবতীয় খরচ।
৩. আলাদা থাকা অবস্থায় মামলা
যদি স্বামী স্ত্রীকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেন, কিংবা স্ত্রী যদি কোনো যৌক্তিক কারণে (যেমন- স্বামীর নিষ্ঠুরতা বা পরকীয়া, ছোঁয়াছে ব্যাধি) আলাদা থাকতে বাধ্য হন, তবে তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ না করেই স্বামীর কাছ থেকে মাসিক ভরণপোষণ আদায়ের জন্য মামলা করতে পারেন।
৪. বকেয়া ভরণপোষণ দাবি
স্ত্রী কেবল বর্তমান বা ভবিষ্যতের খরচই নয়, বরং গত কয়েক মাস বা বছর ধরে স্বামী যদি খরচ না দিয়ে থাকেন, তবে সেই বকেয়া ভরণপোষণ (Arrear Maintenance) দাবি করেও মামলা করতে পারেন। তবে সাধারণত গত ৩ বছরের বকেয়া খরচ আদালত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে।
৫. প্রতিকারের উপায়
পারিবারিক আদালত: স্ত্রী সরাসরি তার নিজ এলাকার পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারেন।
সালিসি পরিষদ: ১৯৮৫ সালের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমেও ভরণপোষণ আদায়ের প্রাথমিক চেষ্টা করা যায়।
সর্বশেষে, বিবাহ বিচ্ছেদ কোনো সমাধান নয় এবং এটি খোরপোশ পাওয়ার পূর্বশর্তও নয়। স্ত্রী হিসেবে আপনার প্রাপ্য সম্মান ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করা স্বামীর আইনি দায়িত্ব। স্বামী যদি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তবে আইন আপনাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত।