ভরণপোষণ শুধু কি তালাকের পর ইদ্দতকালীন সময়ের জন্যই পাওয়া যায়? নাকি দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থাতেও পাওয়া যায়? স্ত্রীর এই অধিকার কোথায় শুরু, কোথায় শেষ? এমনই কিছু প্রশ্নে সম্মুখীন হয়েছিলাম আমি।
কয়েকদিন আগে এক ভদ্রমহিলা আমাকে মেসেজ করেছেন। তার বিয়ে হয়েছে আট বছর। স্বামী সচ্ছল ব্যবসায়ী। কিন্তু ঝগড়া-বিবাদ করে গত তিন মাস ধরে তিনি বাপের বাড়িতে। স্বামী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “যেহেতু তুমি নিজের ইচ্ছায় বাপের বাড়ি গেছো, আমি এক টাকাও খরচ দেব না।” ভদ্র মহিলা দিশেহারা হয়ে গেছেন, কারণ তার নিজের কোনো আয় নেই।
আমাদের সমাজে এমন হাজারো নারী আছেন, যারা জানেন না- কখন আইনত তাদের ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার আছে আর কখন নেই। আজ এই আইনি গোলকধাঁধা থেকে পরিত্রাণের চেষ্টা করছি।
স্ত্রী কখন ভরণপোষণ পাবেন?
১. বিবাহ বহাল থাকাকালীন: দাম্পত্য সম্পর্ক থাকা অবস্থায় স্বামী স্ত্রীর অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাধ্য। এমনকি স্ত্রী যদি চাকরিজীবী বা বিত্তবানও হন, তবুও স্বামীর এই দায়িত্ব কমবে না।
২. যৌক্তিক কারণে আলাদা থাকলে: স্বামী যদি স্ত্রীকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর নির্যাতন করেন, দ্বিতীয় বিয়ে করেন বা যৌতুকের জন্য চাপ দেন, ইত্যাদি কারণে স্ত্রী আলাদা থেকেও পূর্ণ ভরণপোষণ পাবেন।
৩. তালাকের পর (ইদ্দতকাল): তালাক কার্যকর হওয়ার পর ইদ্দত চলাকালীন (সাধারণত ৩ মাস বা গর্ভবতী হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত) স্বামী ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।
স্ত্রী কখন ভরণপোষণ পাবেন না?
ক. অহেতুক অবাধ্যতা: যদি কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই (যেমন- মারধর বা নির্যাতন ছাড়াই) স্ত্রী স্বামীর সাথে থাকতে অস্বীকার করেন বা স্বামীর ঘর ত্যাগ করেন।
খ. ইদ্দতকাল পার হওয়ার পর: বাংলাদেশের বর্তমান আইন অনুযায়ী, সাধারণত ইদ্দতকাল শেষ হয়ে গেলে স্ত্রী আর ভরণপোষণ দাবি করা যায় না (তবে বকেয়া থাকলে তা আদায় করা যায়)।
আইনি সমাধান: স্বামী ভরণপোষণ না দিলে আপনি পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারেন। আদালত কেবল বর্তমান নয়, বিগত সর্বোচ্চ ৩ বছরের বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের আদেশ দিতে পারেন।
প্রতিটি মামলার প্রেক্ষাপট এবং বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন। উপরোক্ত আলোচনায় কেবল সাধারণ প্রতিকারগুলো সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।