প্রিয় পাঠক, দেনমোহর স্ত্রীর একটি আইনগত পাওনা বা ঋণ। অনেক সময় বিচ্ছেদের পর দুঃখ-কষ্টে সময় পার করতে গিয়ে অনেকেই মামলা করার সঠিক সময়টি পার করে ফেলেন। আইনের ভাষায় এই সময়সীমাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. তামাদি আইনের বিধান (Limitation Period)
বাংলাদেশের তামাদি আইন (Limitation Act, 1908) অনুযায়ী, দেনমোহর আদায়ের মামলা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
তালাক কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ বছর (৩৬ মাস)-এর মধ্যে দেনমোহর আদায়ের মামলা করতে হয়।
এই ৩ বছর পার হয়ে গেলে আইনগতভাবে মামলা করার অধিকার খর্ব হয়ে যায় (যদি না আদালতকে কোনো বিশেষ ও যৌক্তিক কারণে বিলম্বের জন্য সন্তুষ্ট করা যায়)।
২. তালাক কার্যকর হওয়া বলতে কী বোঝায়?
এখানে মনে রাখা জরুরি যে, তালাকের নোটিশ পাঠানোর দিন থেকে নয়, বরং নোটিশ পাঠানোর পর ৯০ দিন পার হয়ে যেদিন তালাকটি আইনগতভাবে চূড়ান্ত বা কার্যকর হয়, সেদিন থেকেই ৩ বছরের সময়সীমা গণনা শুরু হবে।
৩. বিয়েরত অবস্থায় কি মামলা করা যায়?
স্বামী-স্ত্রী একসাথে থাকাকালীন যদি স্ত্রী দেনমোহর দাবি করেন এবং স্বামী তা দিতে অস্বীকার করেন, তবে সেই অস্বীকৃতির তারিখ থেকেও ৩ বছরের মধ্যে মামলা করা যায়। অর্থাৎ, মামলা করার জন্য তালাক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা বাধ্যতামূলক নয়।
৪. দেনমোহরের প্রকারভেদ ও সময়সীমা
দেনমোহর সাধারণত দুই প্রকারের হয়, এবং দুটির ক্ষেত্রেই ৩ বছরের নিয়মটি প্রযোজ্য:
মুয়াজ্জাল (Prompt Dower): এটি স্ত্রী চাওবামাত্র স্বামী দিতে বাধ্য। স্বামী দিতে অস্বীকার করলে সেই দিন থেকেই ৩ বছরের সময়সীমা শুরু হয়।
মুঅজ্জল (Deferred Dower): এটি সাধারণত বিবাহ বিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর পর দিতে হয়। এক্ষেত্রে বিচ্ছেদ বা মৃত্যুর দিন থেকে ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়।
৫. স্বামী মারা গেলে করণীয়
যদি স্বামী দেনমোহর পরিশোধ না করেই মারা যান, তবে স্ত্রী তার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে ৩ বছরের মধ্যে মামলা করে তার পাওনা আদায় করতে পারেন। এক্ষেত্রে স্বামীর মৃতুর দিন থেকে সময় গণনা শুরু হবে।
আইনি পরামর্শ:
দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে দেরি করা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তালাক কার্যকর হওয়ার পর পাওনা নিয়ে সমঝোতা না হলে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করা উচিত। মনে রাখবেন, সময়মতো আইনি পদক্ষেপ না নিলে আপনার ন্যায্য অধিকারটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
আইন জানুন, সচেতন থাকুন।