টেক্সট মেসেজ, কল রেকর্ড বা হোটেল বিল কি পরকীয়ার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য?

কোন কোন ডিজিটাল প্রমাণ আদালত গ্রহণ করে? কীভাবে তা প্রদর্শন করতে হবে? ফোন চেক করলেই কি পরকীয়া প্রমাণ হয়?

“আমি জানি সে পরকীয়া করছে, আমার কাছে সব মেসেজের স্ক্রিনশট আছে!” – মাঝে মধ্যেই কিছু ক্লায়েন্ট এমন আত্মবিশ্বাসের সুরে কথা বলেন। কিন্তু মূল ব্যাপারটা হলো, আপনার কাছে যা অকাট্য প্রমাণ মনে হচ্ছে, সঠিক আইনি প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করতে না পারলে আদালতে তা ‘অগ্রহণযোগ্য’ হয়ে যেতে পারে। আবেগের বশবর্তী হয়ে সংগৃহীত প্রমাণ অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়।

কিছুদিন আগের একটা ঘটনা শুনুন। আমার একজন ক্লায়েন্ট তার স্ত্রীর পরকীয়ার শত শত চ্যাট স্ক্রিনশট প্রিন্ট করে আদালতে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনি সেই ফোন বা মূল ডিভাইসটি সংরক্ষণ করেননি এবং স্ক্রিনশটগুলো যে ‘টেম্পারড’ বা এডিট করা নয়, তা প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে বিরোধী পক্ষ ডিজিটাল কারচুপির দাবি তুলে প্রমাণগুলো খারিজ করে দেয়। একটি শক্তিশালী কেস শুধু উপস্থাপনের ভুলেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

ডিজিটাল এভিডেন্সের আইনি গ্রহণযোগ্যতা ও কৌশল:

বাংলাদেশে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী ব্যভিচার বা পরকীয়া এখনো একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে এই অপরাধ প্রমাণে ডিজিটাল এভিডেন্স (Digital Evidence) ব্যবহারের কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি দিক রয়েছে:

১. মেসেজ ও কল রেকর্ড: হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা সাধারণ টেক্সট মেসেজ এবং কল রেকর্ড আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। তবে এটি কেবল স্ক্রিনশট হিসেবে নয়, বরং ‘সাক্ষ্য আইন’ (Evidence Act)-এর নতুন সংশোধনী অনুযায়ী যথাযত ফরমেটে সংরক্ষিত থাকতে হয়।

২. হোটেল বিল ও ছবি: স্বামী বা স্ত্রীর সাথে অন্য কোনো ব্যক্তির হোটেলের রুম বুকিং রেকর্ড, বিল বা আপত্তিকর অবস্থায় ছবি, ব্যভিচার প্রমাণের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণ। এটি দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করতে সাহায্য করে।

৩. সাটিফাইড কপি ও ডিভাইস: ডিজিটাল প্রমাণ উপস্থাপনের সময় যে ডিভাইস (ফোন বা ল্যাপটপ) থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে, সেটি প্রয়োজনে আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি থাকতে হয়। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় ফরেনসিক রিপোর্টের মাধ্যমে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

৪. পারিবারিক আদালতে ব্যবহার: বিচ্ছেদ না চাইলেও ভরণপোষণ বা সন্তানের হেফাজত আদায়ের ক্ষেত্রে সঙ্গীর চারিত্রিক স্খলন প্রমাণের জন্য এই ডিজিটাল তথ্যগুলো কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হয়।

আপনার জন্য বিশেষ পরামর্শ: ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করার সময় লক্ষ্য রাখবেন যেন তা অন্যের ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা’  লঙঘন করে আপনাকে বিপদে না ফেলেন। তথ্য সংগ্রহেরও কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা আছে। মনে রাখবেন, আইন সবার জন্য একই হলেও প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আপনার কাছে থাকা প্রমাণগুলো কীভাবে সাজালে আপনি আদালতে জয়ী হবেন, তা জানতে একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন। সঠিক আইনি কৌশলই আপনার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top