সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার (Property & Inheritance)

সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার: আপনার প্রাপ্য অধিকারের সহজ গাইড

সম্পত্তি বন্টন বা উত্তরাধিকার নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব আমাদের সমাজে খুবই সাধারণ চিত্র। অথচ ইসলামের উত্তরাধিকার আইন (Farā‘i) এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে এই জটিলতাগুলো সহজেই এড়িয়ে চলা সম্ভব।

১. উত্তরাধিকার বা মিরাস কী?

কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি (স্থাবর ও অস্থাবর) তার বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টন করাকেই মিরাস বলা হয়। মুসলিম আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার দাফন-কাফনের খরচ এবং ঋণ পরিশোধ করার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি বন্টন করতে হয়।

২. সম্পত্তিতে নারীর অধিকার

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীরা প্রায়ই তাদের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হন। মনে রাখবেন, আইনিভাবে একজন নারী মা, স্ত্রী, কন্যা বা বোন হিসেবে সুনির্দিষ্ট অংশ পাওয়ার অধিকারী:

কন্যা হিসেবে: পুত্র সন্তান থাকলে কন্যা তার অর্ধেক পান, আর পুত্র না থাকলে কন্যার অংশ বাড়ে।

স্ত্রী হিসেবে: সন্তান থাকলে স্ত্রী সম্পত্তির ৮ ভাগের ১ ভাগ পান, আর সন্তান না থাকলে ৪ ভাগের ১ ভাগ।

মা হিসেবে: নির্দিষ্ট অবস্থায় মা ৬ ভাগের ১ ভাগ বা ৩ ভাগের ১ ভাগ সম্পত্তি পান।

৩. উত্তরাধিকার বন্টনের পদ্ধতি

সম্পত্তি বন্টন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা উচিত:

ওয়ারিশান সার্টিফিকেট: সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বৈধ ওয়ারিশদের তালিকা বা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা।

বাটোয়ারা দলিল (Partition Deed): ওয়ারিশদের মধ্যে আপোষের মাধ্যমে সম্পত্তি ভাগ করে তা রেজিস্ট্রি করে নেওয়া। এটি ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়ানোর সেরা উপায়।

বন্টন মামলা (Partition Suit): যদি কোনো ওয়ারিশ তার প্রাপ্য অংশ দিতে অস্বীকার করে, তবে দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করে আদালত কর্তৃক সম্পত্তি ভাগ করে নেওয়া যায়।

৪. উইল (Will) ও হেবা (Heba) সংক্রান্ত তথ্য

উইল বা ওসিয়ত: একজন মুসলিম তার মোট সম্পত্তির সর্বোচ্চ ৩ ভাগের ১ ভাগ অন্য কাউকে উইল করতে পারেন। তবে ওয়ারিশদের সম্মতিতে এর চেয়ে বেশিও করা সম্ভব।

হেবা (দান): বাবা-মা, ভাই-বোন বা স্বামী-স্ত্রীকে সম্পত্তি হেবা বা দান করতে কোনো ট্যাক্স লাগে না, তবে তা অবশ্যই রেজিস্ট্রি দলিল হতে হবে।

একজন আইনজীবীর টিপস: “সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা শুরু হওয়ার আগেই তার দলিল এবং নামজারি (Mutation) সঠিক আছে কি না তা যাচাই করে নিন। সঠিক সময়ে ওয়ারিশি সম্পত্তি বণ্টন না করলে পরবর্তীতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেটি বড় বিবাদ তৈরি করে।”

সতর্কবার্তা- এটি একটি সাধারণ তথ্য, সুনির্দিষ্ট সমস্যার জন্য সরাসরি আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন। 

এ বিষয়ে আপনার কি কোনো প্রশ্ন আছে?

পাঠকের জিজ্ঞাসা ও আইনি সমাধান

Scroll to Top