বিবাহ বিচ্ছেদ (Divorce & Separation)

তালাক বিচ্ছেদ: আইনি প্রক্রিয়া আপনার অধিকার

দাম্পত্য জীবনে যখন বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে পড়ে, তখন আবেগপ্রবণ না হয়ে আইনি প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে জানা জরুরি। বাংলাদেশের পারিবারিক আইন অনুযায়ী তালাক বা বিচ্ছেদের একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে, যা অনুসরণ না করলে পরবর্তীতে বিভিন্ন আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

. তালাকের আইনি প্রক্রিয়া (The Legal Process)

বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী তালাক কার্যকর করার ধাপগুলো হলো:

নোটিশ প্রদান: স্বামী বা স্ত্রী (যিনি তালাক দিতে চান) তালাক উচ্চারণের পর বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর লিখিতভাবে অপর পক্ষকে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নোটিশ পাঠাবেন।

সালিশি পরিষদ (Arbitration Council): নোটিশ পাওয়ার পর চেয়ারম্যান পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশি পরিষদ গঠন করবেন। এর উদ্দেশ্য হলো পুনর্মিলনের চেষ্টা করা।

কার্যকর হওয়ার সময়: নোটিশ পাঠানোর তারিখ থেকে ৯০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর তালাক চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয় (যদি না এর মধ্যে উভয় পক্ষ আপোষ করে ফেলে)

. নোটিশ দেওয়ার সঠিক নিয়ম

নোটিশ পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু ভুল প্রায়ই দেখা যায়। সঠিক নিয়মটি হলো:

নোটিশটি লিখিত হতে হবে।

এটি অবশ্যই নিবন্ধিত ডাকযোগে (Registered Post with AD) পাঠানো উচিত।

তিনটি কপি তৈরি করতে হবে: একটি অপর পক্ষের জন্য, একটি চেয়ারম্যানের জন্য এবং একটি নিজের কাছে প্রমাণের জন্য।

মনে রাখবেন: শুধুমাত্র মৌখিকভাবেতালাকবললে বা চেয়ারম্যানকে নোটিশ না দিলে আইনিভাবে তালাক কার্যকর হয় না এবং এর ফলে বড় ধরণের জেল বা জরিমানার ঝুঁকি থাকে।

. ইদ্দতকালীন অধিকার (Rights during Iddat)

তালাকের নোটিশ দেওয়ার পর থেকে কার্যকর হওয়া পর্যন্ত (৯০ দিন) সময়কে ইদ্দতকাল বলা হয়। এই সময়ে স্ত্রীর কিছু নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে:

ভরণপোষণ (Maintenance): তালাক কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে পূর্ণ ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী।

বসবাসের অধিকার: ইদ্দত চলাকালীন স্ত্রী স্বামীর ঘরে থাকার অধিকার রাখেন এবং স্বামী তাকে জোরপূর্বক বের করে দিতে পারেন না।

দেনমোহর পরিশোধ: তালাক দেওয়ার সাথে সাথে স্বামীর জন্য স্ত্রীর সম্পূর্ণ দেনমোহর (যদি বকেয়া থাকে) পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।

গর্ভবতী হলে: স্ত্রী যদি গর্ভবতী হন, তবে সন্তান প্রসব না হওয়া পর্যন্ত ইদ্দতকাল চলবে এবং স্বামী এই পুরো সময়ের ভরণপোষণ দিতে বাধ্য থাকবেন।

আইনি পরামর্শ: অনেক ক্ষেত্রে আবেগের বশে ভুল নোটিশ বা সঠিক আইনি পথ অনুসরণ না করার কারণে পরবর্তীতে খোরপোশ বা দেনমোহর নিয়ে জটিলতা হয়। বিচ্ছেদের পথে যাওয়ার আগে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করা আপনার ভবিষ্যতের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

বিশেষ পরামর্শ: এই বিষয়ের খুঁটিনাটি এবং আইনি ধাপগুলো সহজভাবে বুঝতে সংগ্রহ করুন- 

যখন বিশ্বাস ভাঙে: আইনি পথ ও প্রতিকার 

লেখক অ্যাডভোকেট মমিনুল আলম রাসেল 

সতর্কবার্তা- এটি একটি সাধারণ তথ্য, সুনির্দিষ্ট সমস্যার জন্য সরাসরি আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন। 

এ বিষয়ে আপনার কি কোনো প্রশ্ন আছে?

পাঠকের জিজ্ঞাসা ও আইনি সমাধান

Scroll to Top