সাইবার নিরাপত্তা (Cyber Security)

সাইবার নিরাপত্তা: অনলাইন হ্যারাসমেন্ট ও ফেক আইডি থেকে সুরক্ষার উপায়

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমরা যতটা সংযুক্ত, ঠিক ততটাই ঝুঁকির মুখে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ প্রজন্ম প্রায়ই অনলাইনে বিভিন্ন ধরণের হয়রানি ও ফেক আইডির কবলে পড়েন। একজন সাইবার ক্রাইম স্পেশালিস্ট হিসেবে আমি আপনাদের জন্য কিছু কার্যকর আইনি ও কারিগরি পদক্ষেপ নিচে তুলে ধরছি।

১. অনলাইন হ্যারাসমেন্ট বা হয়রানির শিকার হলে কী করবেন?

ফেসবুক, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে কেউ আপনাকে বিরক্ত করলে বা হুমকি দিলে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের কাজগুলো করুন:

প্রমাণ সংরক্ষণ করুন: স্ক্রিনশট নিন এবং সম্ভব হলে প্রোফাইল বা পোস্টের লিংক (URL) কপি করে রাখুন। মনে রাখবেন, মেসেজ ডিলিট করে দিলে বা আপনাকে ব্লক করে দিলে প্রমাণ জোগাড় করা কঠিন হয়ে যায়।

রিপোর্ট ও ব্লক: সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করুন এবং ব্যক্তিকে ব্লক করে দিন।

পরিচয় গোপন রাখুন: কখনো ব্ল্যাকমেইল বা হুমকির মুখে টাকা দেবেন না বা নতুন কোনো ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না।

২. ফেক আইডি বা আইডি হ্যাক হলে করণীয়

আপনার নামে কেউ নকল আইডি চালালে বা আপনার আইডি দখল (Hacked) করলে:

রিপোর্ট: আপনার পরিচিত বন্ধুদের দিয়ে ঐ ফেক আইডিতে ‘Pretending to be someone’ হিসেবে রিপোর্ট করান।

জিডি (GD): নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করুন। এটি আপনার আইনি সুরক্ষার প্রথম ধাপ।

সাইবার হেল্পলাইন: বাংলাদেশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের সাহায্য নিতে পারেন।

৩. কোথায় অভিযোগ জানাবেন? (আইনি আশ্রয়)

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের বিচারের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ও সেল রয়েছে:

সিটিটিসি (CTTC) সাইবার ক্রাইম ইউনিট: আপনি সরাসরি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটে যোগাযোগ করতে পারেন।

হ্যালো সিটি অ্যাপ (Hello City App): এই অ্যাপের মাধ্যমেও ঘরে বসে অভিযোগ দেওয়া যায়।

৯৯৯ (National Emergency): জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ৯৯৯-এ কল করে সাহায্য চাইতে পারেন।

বিটিআরসি (BTRC): ওয়েবসাইট বা কন্টেন্ট ব্লক করার জন্য বিটিআরসিতে আবেদন করা যায়।

৪. নিজেকে সুরক্ষিত রাখার ৫টি গোল্ডেন রুলস

১. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA): আপনার ফেসবুক এবং জিমেইলে অবশ্যই টু-ফ্যাক্টর লক অন রাখুন। 

২. অচেনা লিংক: ইমেইল বা মেসেজে আসা সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না। 

৩. পাসওয়ার্ড নিরাপত্তা: নাম বা মোবাইল নম্বর দিয়ে পাসওয়ার্ড না দিয়ে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। 

৪. পাবলিক ওয়াইফাই: ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করে ব্যাংকিং বা সংবেদনশীল লেনদেন করবেন না। 

৫. ছবি শেয়ারে সতর্কতা: ব্যক্তিগত বা ঘনিষ্ঠ ছবি ইন্টারনেটে শেয়ার করার আগে ১০ বার ভাবুন; কারণ ‘ইন্টারনেট কখনো কিছু ভোলে না’।

সতর্কবার্তা- এটি একটি সাধারণ তথ্য, সুনির্দিষ্ট সমস্যার জন্য সরাসরি আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন।

এ বিষয়ে আপনার কি কোনো প্রশ্ন আছে?

পাঠকের জিজ্ঞাসা ও আইনি সমাধান

Scroll to Top