ভরণপোষণ (Maintenance)

ইসলামী আইন এবং বাংলাদেশের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিবাহের পর স্ত্রীর যাবতীয় মৌলিক প্রয়োজন (খাবার, পোশাক, বাসস্থান চিকিৎসা) মেটানোর আইনি বাধ্যবাধকতা হলো ভরণপোষণ। একইভাবে, সন্তানদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় খরচ বহন করা বাবার আইনগত দায়িত্ব।

. স্ত্রীর ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার

একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হন যখন:

তাদের মধ্যে বৈধ বিবাহ বিদ্যমান থাকে।

স্ত্রী স্বামীর প্রতি অনুগত থাকেন এবং দাম্পত্য দায়িত্ব পালন করেন।

স্ত্রী যুক্তিসঙ্গত কারণে (যেমন স্বামীর নিষ্ঠুরতা বা দেনমোহর না দেওয়া) আলাদা থাকলেও ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন।

. বিচ্ছেদের পর ভরণপোষণ (ইদ্দতকালীন)

বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও একজন স্ত্রী আজীবন ভরণপোষণ পান না। আইন অনুযায়ী:

বিচ্ছেদের পর ইদ্দতকালীন সময়ের (সাধারণত ৯০ দিন বা মাস) জন্য স্বামী ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।

যদি বিচ্ছেদের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকেন, তবে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত স্বামী তাঁর যাবতীয় খরচ বহন করবেন।

. সন্তানদের ভরণপোষণ

সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে বাবার।

পুত্র সন্তান: সাবালক বা ১৮ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত।

কন্যা সন্তান: বিয়ের আগ পর্যন্ত (এমনকি ডিভোর্সের পর কন্যা বাবা কাছে ফিরে আসলে বাবা পুনরায় দায়িত্ব নিতে বাধ্য)

অক্ষম সন্তান: সন্তান যদি শারীরিকভাবে বা মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হয়, তবে আজীবন বাবা ভরণপোষণ দেবেন।

. আইনি প্রতিকার: মামলা কখন কোথায়?

স্বামী বা বাবা যদি ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করেন, তবে সংক্ষুব্ধ পক্ষ পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। আদালত উভয় পক্ষের সামাজিক মর্যাদা এবং স্বামীর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে মাসিক একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা (খোরপোশ) নির্ধারণ করে দেন।

জরুরি নোট: ভরণপোষণ স্ত্রীর কোনো দয়া নয়, বরং এটি তাঁর আইনগত অধিকার। মুসলিম আইন অনুযায়ী স্বামী সচ্ছল হোন বা না হোন, স্ত্রীর ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানো তাঁর ওপর ফরজ।

বিশেষ পরামর্শ: এই বিষয়ের খুঁটিনাটি এবং আইনি ধাপগুলো সহজভাবে বুঝতে সংগ্রহ করুন- 

যখন বিশ্বাস ভাঙে: আইনি পথ ও প্রতিকার 

লেখক অ্যাডভোকেট মমিনুল আলম রাসেল 

সতর্কবার্তা- এটি একটি সাধারণ তথ্য, সুনির্দিষ্ট সমস্যার জন্য সরাসরি আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন। 

এ বিষয়ে আপনার কি কোনো প্রশ্ন আছে?

পাঠকের জিজ্ঞাসা ও আইনি সমাধান

Scroll to Top