স্বামী নিরুদ্দেশ হলে স্ত্রী কী করবেন?

আইন সহায়িকা ব্যানার। “স্বামী নিরুদ্দেশ হলে স্ত্রী কী করবেন?” এ বিষয়ে আইনি আলোচনার কথা উল্লেখ করেছেন অ্যাডভোকেট মমিনুল আলম রাসেল এবং নিচে তার নাম ও যোগাযোগের নম্বর রয়েছে।

প্রিয় পাঠক, স্বামী নিখোঁজ হওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা। এমন পরিস্থিতিতে আবেগতাড়িত না হয়ে ধৈর্য ও আইনি সচেতনতার সাথে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই সমস্যার সমাধান নিচে আলোচনা করা হলো:

১. প্রাথমিক পদক্ষেপ: সাধারণ ডায়েরি (GD):

স্বামী নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথে নিকটস্থ থানায় একটি জিডি (General Diary) করতে হবে। নিখোঁজ হওয়ার তারিখ, সময় এবং সম্ভাব্য স্থান উল্লেখ করে জিডি করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ পরবর্তী সকল আইনি প্রক্রিয়ায় এই জিডির কপিটি প্রধান প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

২. সম্পত্তির উত্তরাধিকার ও ব্যবস্থাপনা:

আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হলেই তার সম্পত্তি বণ্টন করা যায় না।

সাক্ষ্য আইন (Evidence Act, 1872): এই আইনের ১০৭ ও ১০৮ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি টানা ৭ বছর নিখোঁজ থাকেন এবং তার সাথে যোগাযোগ হতে পারত এমন নিকটাত্মীয়রা তার কোনো খবর না পান, তবে আইনিভাবে তাকে ‘মৃত’ বলে ধরে নেয়া হয় (Presumption of Death)।

৭ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আদালতে উপযুক্ত প্রমাণের মাধ্যমে তাকে মৃত ঘোষণা করিয়ে স্ত্রী তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তি দাবি করতে পারেন।

৩. বৈবাহিক সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ:

স্বামী নিখোঁজ থাকলে স্ত্রী কতদিন অপেক্ষা করবেন? এক্ষেত্রে মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ (Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939) অনুযায়ী:

যদি স্বামীর কোনো সন্ধান টানা ৪ বছর পর্যন্ত না পাওয়া যায়, তবে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন।

আদালত ডিক্রি জারির পর ৬ মাস অপেক্ষা করবেন। এই সময়ের মধ্যে স্বামী ফিরে না আসলে বিচ্ছেদ কার্যকর হবে। তবে বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার পর স্ত্রীকে নির্দিষ্ট সময় (চার মাস দশ দিন) ইদ্দত পালন করতে হবে এবং এরপর তিনি চাইলে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন।

৪. দেনমোহর ও ভরণপোষণ:

স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলেও স্ত্রী তার পাওনা দেনমোহর আদায়ের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারেন। স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে এই দেনমোহর এবং সন্তানদের ভরণপোষণ মেটানোর আইনি সুযোগ রয়েছে।

৫. বিশেষ সতর্কতা:

স্বামী নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথেই যদি স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করেন (আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করে), তবে সেটি আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং পূর্বের স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আইনগতভাবে ‘মৃত ঘোষণা’ বা ‘বিবাহ বিচ্ছেদ’ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়।

আইনি পরামর্শ:

এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা এড়াতে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। বিশেষ করে সম্পত্তির নামজারি বা সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য আদালতের ঘোষণাপত্র অত্যন্ত কার্যকর।

Share the Post:
Scroll to Top