আয়েশা বেগমের ১০ বছরের সংসার হঠাৎই যেন ওলটপালট হয়ে গেল! তিনি যখন জানতে পারলেন, তার স্বামী তাকে বা সালিসি পরিষদকে না জানিয়ে তাদের কোনো অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে বউ ঘরে তুললেন!
আয়েশা যখন এর প্রতিবাদ করলেন এবং নিজের ও সন্তানের জন্য খরচ চাইলেন, স্বামী সাফ জানিয়ে দিলেন— “আমি এখন নতুন সংসার নিয়ে আছি, আমার একার আয়ে দুই সংসার চালানো সম্ভব না। থাকতে হলে নিজের খরচ নিজে চালাও, নয়তো বাপের বাড়ি চলে যাও।”
আয়েশা ভেবে পাচ্ছিলেন না, স্বামী একাধিক বিয়ে করলে প্রথম স্ত্রীর ভরণপোষণের অধিকার কি আসলেই কমে যায়, নাকি আইন এখানে অন্য কিছু বলে?
আইনগত ব্যাখ্যা: একাধিক স্ত্রী থাকলে ভরণপোষণের নিয়ম
বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন এবং উচ্চ আদালতের নজির অনুযায়ী, একাধিক স্ত্রী থাকলে ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বরং আইন এখানে অত্যন্ত কড়া:
১. সমানাধিকার ও সমতা রক্ষা: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এবং ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, একজন স্বামী যদি একাধিক বিয়ে করেন, তবে তাকে প্রতিটি স্ত্রীর প্রতি সমান আচরণ এবং সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এক স্ত্রীকে বিলাসী জীবন আর অন্য স্ত্রীকে অবহেলা করা আইনত দণ্ডনীয়।
২. দ্বিতীয় বিয়ে খোরপোশ না দেওয়ার অজুহাত নয়: স্বামী বলতে পারবেন না যে তার খরচ বেড়ে গেছে বা আয় কম। প্রথম স্ত্রী এবং তার সন্তানেরা যেভাবে আগে ভরণপোষণ পাচ্ছিলেন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পরও সেই একই মান বজায় রেখে খরচ দিতে স্বামী আইনত বাধ্য।
৩. পৃথক বসবাসের অধিকার ও ভরণপোষণ: স্বামী যদি প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া বা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে প্রথম স্ত্রী স্বামীর সাথে এক ঘরে থাকতে অস্বীকার করতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে আলাদা থাকলেও স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে পূর্ণ ভরণপোষণ পাওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন।
৪. আইনের আশ্রয়: কোনো স্বামী যদি একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে ভরণপোষণে বৈষম্য করেন বা কোনো এক পক্ষকে বঞ্চিত করেন, তবে ভুক্তভোগী স্ত্রী সরাসরি স্থানীয় সালিসি পরিষদ (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা) অথবা পারিবারিক আদালতে মামলা করে তার মাসিক ও বকেয়া ভরণপোষণ আদায় করতে পারেন।
বস্তুত, বহুবিবাহ স্বামীর আইনি দায়িত্বকে অর্ধেক করে দেয় না, বরং তা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। কোনো স্ত্রীই তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের কারণে নিজের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না।
আপনার জন্য পরামর্শ: প্রতিটি মামলার প্রেক্ষাপট এবং বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আইনকানুনগুলো একই হলেও উপস্থাপনের ধরনে ফলের ভিন্নতা আসে। তাই যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন। উপরোক্ত আলোচনায় কেবল সাধারণ প্রতিকারগুলো সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।