“স্ত্রী তো নিজেই তালাক দিয়েছে, তাহলে দেনমোহর দিতে হবে কেন?” – এমন প্রশ্ন গত এক মাসে আমাকে অন্তত শতাধিক মানুষ করেছেন আমায়। কেউ কমেন্টে, কেউ বা মেসেঞ্জারে অথবা হোয়াসটঅ্যাপে।
সেই একই প্রসঙ্গ, একই প্রশ্ন, সেই একই নিগৃহিত হবার গল্প! অবাক হইনি বরং ব্যথিত হয়েছি। কারণ, এর পেছনে রয়েছে আমাদের সমাজে গভীরভাবে গেঁথে থাকা মারাত্মক কিছু ভুল ধারণা, একেবারে বদ্ধমূল সেই ধারণাগুলো।
ভাবুন তো, একটা মানুষের সারা জীবনের স্বপ্ন আর আস্থার জায়গা ছিল বিয়ে। সেই স্বপ্নের জগত থেকে অনেককেই বিচ্যুত হতে হয়, নানান কারণে। একটা সময় নিতে হয় কঠিক কিছু সিদ্ধান্ত, দূরত্ব বাড়ে, তারপর একদিন একটা নোটিশ যায় অন্যজনের কাছে, ডিভোর্সের সেই নোটিশ।
তারপর, শুরু হয় আরেক গল্প। দেনমোহর, খোরপোশ, সন্তানের ভরণপোষণ ইত্যাদি ইত্যাদি। খুব একটা অচেনা নয় এই গল্পগুলো। যেন প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে আমাদের চারপাশে। যেন নারীর জীবনের সাথে গেঁথে আছে এই কঠিনতর পথচলা।
একটা সময় আমরাও অভ্যস্ত হয়ে উঠি সেই গল্পে। অতি সাধারণ মনে হয় বিচ্ছেদের গল্পগুলো। কিন্তু সেই অসহায় নারীর কথাটা ভেবেছেন কখনো। একদিকে ভাঙা সম্পর্কের মানসিক চাপ, একটা সাজানো গোছানো সংসার থেকে হঠাৎ-ই দুঃসহ যন্ত্রণা, অন্যদিকে নিজের অধিকার নিয়ে অবিশ্বাসের দেয়াল আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের টানাপোড়েন।
হয়তো সেই অন্ধকার ভবিষ্যতের পথে কিছুটা আলোর সন্ধান দেয়, দেনমোহরের অর্থটুকু। সেটাতেও বঞ্চনার কমতি নেই যেন। অথচ এটা ধর্মীয় বিধান, আল্লাহ তায়ালার লিখিত বিধান। সূরা নিসার চার নম্বর আয়াতে উল্লেখ করেছেন, ” আর নারীদেরকে তাদের মোহর (দেনমোহর) সন্তুষ্টচিত্তে দিয়ে দাও।”
সুতরাং, খুব পরিস্কার করে জেনে রাখুন, দেনমোহর বিয়ের সাথে সম্পর্কিত। তালাকের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। তালাক যেই দিক না কেন, দেনমোহর স্বামীকে দিতেই হবে। এমনকি স্বামী মরে গেলে, তার সম্পত্তি থেকে, উত্তরাধিকার সম্পত্তি দেয়ার আগে, দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে, যদি অপরিশোধিত থাকে। এটাই বিধান।
আইন ও শরিয়তের দৃষ্টিতে স্পষ্টত:
– দেনমোহর শুধু বিয়ের সাথে সম্পর্কিত।
– তালাক যেই দিক থেকেই আসুক, স্বামী বা স্ত্রী- দেনমোহর স্বামীকে দিতেই হবে।
– দেনমোহর হলো স্বামীর উপর বিয়ের সময়কার আর্থিক দায়িত্ব, তালাক সেই দায় থেকে মুক্ত করে না।
অনেকেই ভুল ভাবে মনে করেন, স্ত্রী যদি তালাক চায়, তবে দেনমোহর দিতে হবে না। বাস্তবে, এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। বরং দেনমোহর হলো বিয়ের একটি মৌলিক ও অঙ্গীকারমূলক শর্ত, যা অন্য কিছুর সাথে মিশিয়ে দেখা ঠিক নয়।
আপনার করণীয়:
এমন ভুল ধারণার ফাঁদে না পড়ে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেটের সঙ্গে পরামর্শ করুন। আইনকানুন একই হলেও প্রতিটি ঘটনার পটভূমি আলাদা, তাই এর সমাধানও ভিন্ন হয়। দেনমোহর নারীর ন্যায্য অধিকার। এটি কোনো শর্তসাপেক্ষ অনুদান নয়, বরং বিয়ের মুহূর্তেই এটি স্বীকৃত একটি পাওনা।
দাম্পত্য, পরকীয়া, পারিবারিক আইন, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাকত্ব ও হেফাজত, নারীর অধিকার এবং অন্যান্য আইনসংক্রান্ত নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে আমাদের পেজটি ফলো করুন।
পোস্টটি শেয়ার করুন, তাতে আপনার কাছের মানুষজন সচেতন হবেন, উপকৃত হবেন।
[একটি ঘোষণা। লেখাগুলো আমার প্রকাশিতব্য বইয়ের পাণ্ডুলিপির অংশ। সেই ধারাবাহিকতায় কিছু কিছু নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। কপি-পেস্ট করলে লেখকের নাম পরিচয়সহ করবেন। একই ধাচের কিছু পোস্ট পূর্বেও লেখা হয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনা করে পুনরায় দেয়া হলো, আরও উন্নত করে]
অ্যাডভোকেট মমিনুল আলম রাসেল
এলএলএম, এমবিএ, এমএ, ডিসিএপি
আইনজীবী, লেখক, ফ্যামিলি কনসালটেন্ট
সাবেক টেলিকম বিশেষজ্ঞ [রবি আজিয়াটা লি.]
01715747777, 01641000008
#AdvocateMaminulAlamRussel #ফ্যামিলিকনসালটেন্ট #ন্যায্যতাশেয়ারকরুন #আইনসহায়িকা #LegalGuidebd